ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ক্রমাগত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ফলে গত ৪৮ ঘণ্টায় ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ১৬ জন নিহত এবং আরও ১৬ জন আহত হয়েছেন। শনিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উপত্যকার হাসপাতালগুলো এই হতাহতদের গ্রহণ করেছে। ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি অমান্য করেই ইসরায়েল এই হামলা চালাচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নতুন নিহতদের মধ্যে ৭ জন সাম্প্রতিক হামলায় (৬ জন সরাসরি বোমা ও গুলিবর্ষণে এবং ১ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায়) মারা গেছেন। এছাড়া বাকি ৯ জনের মরদেহ ধসে পড়া ঘরবাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গাজা জুড়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি আগ্রাসনে ১ হাজার ৬৬ জন নিহত এবং ৩ হাজার ৪৪৫ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসের পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব এলাকায় আবাসিক ভবনগুলো ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শহরের পূর্ব অংশে অবস্থিত বনি সুহাইলা এলাকার বেশ কিছু বহুতল ভবন ইসরায়েলি বাহিনী সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। এই ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি খান ইউনিসের পশ্চিমাঞ্চলের আকাশে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলোকে খুব নিচু দিয়ে উড্ডয়ন করতে দেখা গেছে। উপত্যকার দক্ষিণের অপর শহর রাফাহর উত্তর-পশ্চিম অংশেও ইসরায়েলি আর্টিলারি বা কামান থেকে অনবরত গোলাবর্ষণ করা হচ্ছে এবং শহরের পশ্চিম আকাশে একের পর এক লাইটিং বোম্ব বা আলো উৎপাদনকারী বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে।
একই সময়ে গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলীয় তুফাহ এলাকায় ইসরায়েলি ট্যাংক থেকে তীব্র গুলিবর্ষণ ও ভারী কামানের গোলা নিক্ষেপ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের এই ভয়াবহ গণহত্যামূলক যুদ্ধে গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৯০ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহতের সংখ্যা পৌঁছেছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৫৩ জনে। উল্লেখ্য, দুই বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। দীর্ঘ এই সামরিক অভিযানে গাজা উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে এবং জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী এই উপত্যকার পুনর্গঠন ব্যয় অন্তত ৭ হাজার কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
টিএইচএ/
