গত শুক্রবারে প্রান্তিক এক গ্রামে ইফতারের দাওয়াত ছিলো। সাহিবে দাওয়াতের কথামতো গাড়ি থেকে নেমে চাষের বিলের আইল ধরে হাঁটতে লাগলাম। বিশাল বিলজুড়ে সবুজের সমারোহ। ধানের চারাগুলো বড় হতে শুরু করছে। সবুজে ছেয়ে গেছে পুরো বিল। চাষিরা তাদের নির্দিষ্ট জমিতে সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করছে। সেসব দেখে দেখে পথচলতে ভালোই লাগছে।
হাঁটতে হাঁটতে মাঝ বিলে পৌঁছে দুইজন কিউট কন্যাশিশুর সাথে সাক্ষাৎ হলো। তারা সম্ভবত দোকানে যাচ্ছিলো। আমাকে দেখেই মিষ্টি হাসিতে ঝলমলে চেহারায় মৃদু কন্ঠে সালাম দিলো। জিজ্ঞেস করলাম, তোমাদের নাম কী, কোন ক্লাসে পড়ো? গঠনে হালকা ছোট মেয়েটা বললো, সে নুরানী মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণীতে পড়ে। বেশ। জিজ্ঞেস করলাম, মাদরাসা মা’হাদ উসমান বিন আফফান চিনো? সে আমার কথা বোধহয় ঠিকঠাক বুঝে উঠতে পারেনি—বলে উঠলো হাদিকে চিনি! সে মা’হাদকে হাদি মনে করে এমন উত্তর দিলো। আমি রীতিমতো শক খেলাম! এমন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ছোট্ট কলিটিও হাদিকে চেনে! বললাম, হাদি কে? সে বললো, তিনি একজন ভালো মানুষ ছিলেন। তাকে ঢাকাতে গুলি করে হত্যা করা হয়ছে! আমি আরো বেশি বিস্মিত হলাম—একটা বাচ্চা মেয়ে গড়গড় করে হাদিকে বর্ণনা করছে! সে বললো, আমি হাদি সাহারার, হাদি তুই ফিরে আই—সব পারি। বলো তো দেখি। আমি বলতে দেরি সে অকুণ্ঠচিত্তে তার কোকিল কন্ঠে গায়তে শুরু করলো—হাদি সাহারার ঊষার বালুতে আবে জমজম পানি..
পুরোটা গেয়ে শুনালো। আমি শুনছিলাম আর হাদির জগতে হারিয়ে গেলাম। সেটা শেষ করেই হাদি তুই ফিরে আয়… গাওয়া শুরু করতেই আমি ফোন বের করে ভিডিও করতে চাওয়াতে সে লজ্জা পেয়ে না গেয়ে হেসে হেসে দুজনেই দৌড়ে চলে গেলো। খুবই আফসোস লাগলো—কেনো যে ভিডিও করতে গেলাম! ফোন বের না করলে যে পুরোটা শুনতে পারতাম।
যদিও হাদি ভাইকে মানুষের চোখের আড়াল করার সুক্ষ্ম পাঁয়তারা চলছে। মিডিয়া থেকে হারিয়ে দেয়া হচ্ছে—আমার মনে হয় না তারা সফল হবে। কারণ, তিনি নবপ্রজন্মের হৃদয়ের গহীনে স্থান করে নিয়েছেন। হাদি ভাই যেভাবে পুরো জাতিকে জাগিয়ে গেছেন আমার মনে হয় না এই জাতিকে কেউ হারাতে পারবে।
তারেক আব্দুল্লাহ
শিক্ষার্থী, জামেয়া দারুল মা’রিফ আল-ইসলামিয়া, চট্টগ্রাম।
টিএইচএ/
