নিজস্ব প্রতিবেদক :: ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেছেন, তাদের মতে, সরকার পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার সম্পন্ন হয়নি এবং ন্যায়বিচার, সুশাসন ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
বুধবার (৮ জুলাই) বরিশাল নগরীর নতুন বাজারে আবু বকর সিদ্দিক তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসা অডিটোরিয়ামে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ, বরিশাল মহানগর শাখার উদ্যোগে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা-প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সাআদ বিন জাকির। তিনি বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাস শুধু স্মরণ করার জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তা সংরক্ষণ ও পরিচিত করে তোলাও জাতীয় দায়িত্ব। জুলাই আন্দোলন প্রমাণ করেছে, অন্যায় ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে কোনো শক্তিই স্থায়ী হতে পারে না। শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ, আলেম-উলামা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণই ছিল এ আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শক্তি।
তিনি বলেন, যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে, যখন বাংলাদেশে আর কখনো বৈষম্য, দমন-পীড়ন কিংবা স্বৈরশাসনের পুনরাবৃত্তি হবে না। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও সহনশীল একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা। এমন একটি শিক্ষাঙ্গন প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ছিল, যেখানে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারবে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার পরিবেশ থাকবে। তবে সেই প্রত্যাশা এখনো পুরোপুরি পূরণ হয়নি।
সাআদ বিন জাকির আরও বলেন, রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার এখনো হয়নি। সরকার পরিবর্তন হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে অনেক পুরোনো সমস্যাই রয়ে গেছে। মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও সুশাসনের যে স্বপ্ন নিয়ে আন্দোলন হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। শুধু নেতৃত্বের পরিবর্তনের মাধ্যমে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব নয়, নীতিরও পরিবর্তন প্রয়োজন।
মহানগর ছাত্র জমিয়তের আহ্বায়ক সুলাইমান মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব হাফেজ জুবায়ের আহমাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি হাফেজ আব্দুর রহমান ছাব্বিত এবং কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক শিহাব উদ্দিন।
আলোচনা সভা শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের রূহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
