আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হলে অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি ছড়াবে বিশ্বজুড়ে: জাতিসংঘ

by hsnalmahmud@gmail.com

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে বিচ্ছিন্ন করার পরিবর্তে দেশটির সাথে সম্পর্ক ও সম্পৃক্ততা বাড়াতে পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তাঁরা সতর্ক করে বলেছেন, আফগানিস্তানকে অবহেলা বা বিচ্ছিন্ন করা হলে দেশটিতে চরম অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব কেবল আফগান সীমান্তেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বজুড়ে।

আফগানিস্তান সফররত জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রশাসক আলেকজান্ডার ডি ক্রু সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক যৌথ সাক্ষাৎকারে এই উদ্বেগের কথা জানান।

বিজ্ঞাপন
banner

বুধবার (৮ জুলাই) আফগান সংবাদমাধ্যম আরিয়ানা নিউজের বরাতে আজ বুধবার এই তথ্য জানা গেছে।

সাক্ষাৎকারে ইউএনএইচসিআর প্রধান বারহাম সালিহ বলেন, “সাম্প্রতিক অতীতের শিক্ষা হলো, আফগানিস্তানকে উপেক্ষা করা বা ভুলে থাকা কোনো ভালো ফলাফল আনে না।” তিনি চরমপন্থা, মাদক পাচার, আন্তর্জাতিক অপরাধ এবং নতুন করে শরণার্থী সংকটের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে বলেন, “সম্পৃক্ততাই ইতিবাচক পরিবর্তনের সর্বোত্তম উপায়। এটি ছাড়া আমরা বড় ধরনের অস্থিতিশীলতার ঝুঁকিতে পড়ব এবং তার সব ধরনের পরিণতি আমাদের ভোগ করতে হবে।”

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দশকের যুদ্ধ-বিগ্রহের পর বর্তমানে আফগানিস্তান জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বিপুলসংখ্যক প্রত্যাবর্তনকারী শরণার্থীর ঢলে বহুমুখী সংকটের মুখোমুখি। ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ লাখ আফগান নাগরিক (যাঁদের অধিকাংশই পাকিস্তান ও ইরান থেকে এসেছেন) নিজ দেশে ফিরেছেন এবং চলতি বছরে আরও ২০ লাখ মানুষের ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমন আফগানিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবাগুলোর ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করেছে।

ইউএনডিপি-র প্রশাসক আলেকজান্ডার ডি ক্রু জানান, আন্তর্জাতিক সহায়তায় ব্যাপক কাটছাঁটের কারণে গত এক বছরে আফগানিস্তানে ৪২২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক মানুষ মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

যদিও ২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে কোনো পশ্চিমা দেশই এখন পর্যন্ত তালেবান নেতৃত্বাধীন ‘ইসলামিক আমিরাত’ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি, তবুও জাতিসংঘ কর্মকর্তারা তাদের কিছু ইতিবাচক অগ্রগতির কথা স্বীকার করেছেন। ডি ক্রু উল্লেখ করেন, আফগানিস্তানে বর্তমানে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বৃদ্ধি পেয়েছে, দুর্নীতি কমেছে এবং আফিম বা মাদক উৎপাদন প্রায় ৯৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে কৃষকদের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা না করা হলে পোস্ত চাষের পুনরুত্থান ঘটতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন এবং এ জন্য আন্তর্জাতিক তহবিলের ওপর জোর দেন।

অবশ্য আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আফগান নারী ও মেয়েদের ওপর আরোপিত নানাবিধ বিধিনিষেধ এখনো বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। জাতিসংঘ কর্মকর্তারা জানান, তাঁরা কাবুলের নীতি-নির্ধারকদের কাছে এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উত্থাপন করেছেন। তাঁরা মনে করেন, অর্থপূর্ণ সংস্কারের জন্য গঠনমূলক আলোচনাই একমাত্র পথ।

বিশ্ব সম্প্রদায়কে সতর্ক করে বারহাম সালিহ বলেন, “আফগানিস্তানে নিষ্ক্রিয় থাকার মূল্য সক্রিয় থাকার চেয়ে অনেক বেশি চড়া হবে। আফগানিস্তানকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা সম্ভব নয় এবং সেখানে যা ঘটবে, তা শুধু তাদের নিজেদের সীমানার ভেতরেই আটকে থাকবে না।”

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222