গাজায় নিয়ন্ত্রিত ‘মানবিক অঞ্চল’ গড়ার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্পের বোর্ড অব পিস

by Abid vs36

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিষদ দক্ষিণ গাজায় পরীক্ষামূলক ‘মানবিক অঞ্চল’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। মূলত নিরাপত্তা যাচাই-বাছাই বা ভেটিং সম্পন্ন হওয়া লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিককে পুনর্বাসন ও নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বোর্ডের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এই পরিকল্পনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্পের ঘোষিত ২০ দফা পরিকল্পনার আলোকে যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার অন্তর্বর্তীকালীন দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনার দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটি। তাদের কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে শুরু করার ক্ষেত্রে এই পরীক্ষামূলক অঞ্চলটি একটি প্রাথমিক ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দক্ষিণ গাজার ধ্বংসপ্রাপ্ত শহর রাফাহ এলাকাকে এর সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অঞ্চলটির সামগ্রিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে বোর্ড অব পিসের পরিচালনাধীন নবগঠিত বহুজাতিক সেনা সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ (আইএসএফ)। একই সঙ্গে গাজার অন্তর্বর্তী বেসামরিক প্রশাসন ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ (এনসিএজি) স্থানীয়দের প্রবেশাধিকার ও সাধারণ ভেটিং তদারকি করবে।

বিজ্ঞাপন
banner

তবে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত এই নিয়ন্ত্রিত মানবিক অঞ্চল তৈরির উদ্যোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ও এনজিও মহলে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। গাজায় কর্মরত বেশ কয়েকজন কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থার কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, সুনির্দিষ্ট একটি অবরুদ্ধ সীমানায় সাধারণ মানুষকে একত্রিত করা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী হতে পারে। এটি ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন চলাচলের অধিকার খর্ব করা এবং প্রকারান্তরে তাদের স্থানচ্যুত করার শামিল হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা। যদিও বোর্ডের উক্ত কর্মকর্তা দাবি করেছেন, প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী হবে এবং কোনো সশস্ত্র ব্যক্তি যাতে অনুপ্রবেশ করতে না পারে তা নিশ্চিত করতেই মূলত আইএসএফ নিরাপত্তা বেষ্টনী হিসেবে কাজ করবে, যেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর কোনো অংশগ্রহণ থাকবে না।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনপ্রাপ্ত বোর্ড অব পিস চলতি বছরের শুরুর দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে, যার প্রধান লক্ষ্য গাজায় হামাস-পরবর্তী নতুন বেসামরিক প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় মৌলিক জনসেবা ফিরিয়ে আনা। বর্তমানে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সদস্যরা মিশরের কায়রোতে অবস্থান করছেন এবং গাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করতে পারেননি। অন্যদিকে, গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও বর্তমানে গাজার ৬০ শতাংশের বেশি অঞ্চল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর শক্ত নিয়ন্ত্রণে রয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত এই প্রকল্প কতখানি কার্যকর হয়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে পর্যবেক্ষণ চলছে।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222