আবারও উত্তাল নেপাল, বালেন শাহের পদত্যাগ দাবি

by Abid vs36

আন্তর্জাতিক ডেক্স: জেন-জি আন্দোলনের মুখে সরকার পরিবর্তনের পর পুনর্গঠিত নেপালের নতুন সরকারের বিরুদ্ধে আবারও আন্দোলনে নেমেছে দেশটির ক্ষুব্ধ তরুণ সমাজ। রাজধানী কাঠমান্ডুতে পুলিশের হয়রানির শিকার হয়ে এক রাইড-শেয়ারিং চালকের মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে। প্রধানমন্ত্রী তথা সরকারপ্রধান বালেন্দ্র (বালেন) শাহের কঠোর ও দমনমূলক নীতির প্রতিবাদে এখন রাস্তায় জেন-জি বা নতুন প্রজন্মের হাজার হাজার তরুণ-তরুণী।

রোববার রাজধানীর অতি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন সিংহলিল দরবার সেক্রেটারিয়েটের সামনে শত শত ক্ষুব্ধ তরুণ-তরুণী ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। আন্দোলনকারীরা ‘দরিদ্রদের ওপর অত্যাচার বন্ধ করো’ এবং ‘মানবাধিকার রক্ষা করো’সহ সরকারের নীতিবিরোধী নানা স্লোগান দেন। একই সাথে তারা বালেন শাহ সরকারের উচ্ছেদ অভিযানের শিকার হওয়া নদী তীরের বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন, বেআইনি গ্রেপ্তার বন্ধ এবং প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহর পদত্যাগের জোর দাবি তুলেছেন।

বিজ্ঞাপন
banner

বিক্ষোভের নেপথ্যে থাকা মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার। কাঠমান্ডুর একটি ব্যস্ত সড়কে গণেশ নেপালি নামের ২৫ বছর বয়সী এক তরুণ রাইড-শেয়ারিং চালক তার মোটরসাইকেল নিয়ে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় কাঠমান্ডু মিউনিসিপ্যাল (পৌর) পুলিশ এসে হঠাৎ করেই তার বাইকের চাকায় লক লাগিয়ে দেয়। পৌর পুলিশের এমন অসংবেদনশীল আচরণ ও রুটি-রুজি বন্ধের প্রতিবাদে চরম ক্ষোভে গণেশ নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে পরদিন শুক্রবার তার মৃত্যু হয়। এই খবরের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বালেন্দ্র শাহ ক্ষমতায় আসার পর থেকে কাঠমান্ডু নগর পুলিশের বলপ্রয়োগ ও আগ্রাসী মনোভাব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ফুটপাত পরিষ্কারের নামে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী উচ্ছেদ এবং নদী তীরের বস্তি ভাঙার ক্ষেত্রে বালেন শাহ প্রশাসন চরম নির্মম নীতি গ্রহণ করে আসছে। বেশ কয়েকটি স্থানে এসব অভিযান রক্তাক্ত সংঘর্ষেও রূপ নেয়, যা খেটে খাওয়া ও গরিব মানুষদের জীবনযাত্রাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলেছে।

নেপালের আইন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তারাও পৌর পুলিশের এই ভূমিকাকে সরাসরি বেআইনি বলে অভিহিত করছেন। সিনিয়র অ্যাডভোকেট রাজু চাপাগাইন ও নেপাল পুলিশের সাবেক ডিআইজি পূর্ণচন্দ্র জোশী জানান, স্থানীয় পৌর পুলিশের কাজ নাগরিক সুবিধা তদারকি করা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ বা লাঠিচার্জ করে বলপ্রয়োগের আইনি এখতিয়ার তাদের নেই। দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর পৌর পুলিশের এই বেআইনি নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে পুরো দেশে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222