পাকিস্তান সীমান্তে বেড়া দিয়েছে, সীমান্ত পারাপারের পথ বন্ধ করেছে এবং আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বিদ্রোহ অব্যাহত ছিল।
পাকিস্তান আফগানিস্তানে হামলা চালাতে পারে, সীমান্ত বন্ধ করতে পারে এবং সামরিক অভিযান জোরদার করতে পারে। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরের রাজনৈতিক ও বৈধতার সংকট থেকে বোমা হামলা চালিয়ে বেরিয়ে আসতে পারবে না।
পাকিস্তান সীমান্তে বেড়া দিয়েছে, সীমান্ত পারাপারের পথ বন্ধ করেছে এবং আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বিদ্রোহ অব্যাহত ছিল।
এটাই সেই স্ববিরোধিতা যার মুখোমুখি ইসলামাবাদের নিরাপত্তা সংস্থাকে হতে হয়নি। পাকিস্তান ডুরান্ড লাইনের ওপারে সামরিক শক্তি প্রদর্শন করতে পারে, কাবুলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, বাণিজ্য সম্পর্ক সীমিত করতে পারে এবং আফগানদের নির্বাসিত করতে পারে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে অভিযান, নজরদারি এবং জরুরি আইন থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানের অভ্যন্তরে দুর্বৃত্তদের সহিংসতা কেন বারবার সংঘটিত হচ্ছে, তার কোনোটিই এই পদক্ষেপগুলো দিয়ে ঢেকে দেওয়া যাবে না।
পাকিস্তানের প্রকৃত নিরাপত্তা উদ্বেগ রয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বেসামরিক নাগরিক, পুলিশ কর্মকর্তা এবং সৈন্যদের হত্যা করেছে, এবং কাবুলের উচিত নয় আফগান ভূখণ্ডকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া। কিন্তু আশ্রয় দেওয়াটা ছবির একটি অংশ মাত্র। এটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরেই জঙ্গিবাদের স্থায়িত্ব, ভৌগোলিক কেন্দ্রীভবন এবং রাজনৈতিক স্থিতিস্থাপকতার ব্যাখ্যা দিতে পারে না।
সংখ্যাগুলো বর্তমান রোগনির্ণয়ের ব্যর্থতাকে উন্মোচিত করে। পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ ২০২৫ সালে ১,০৬৬টি হামলা নথিভুক্ত করেছে, যা ২০১৪ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যা এবং আগের বছরের চেয়ে ১৭ শতাংশ বেশি। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান ৬৩ শতাংশ বেড়ে ৪৮২টিতে দাঁড়িয়েছে। আর ২,১৩৮ জন দুর্বৃত্ত নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে—যা আগের বছরের দ্বিগুণেরও বেশি—তবুও হামলা বেড়েছে। বেশিরভাগ সহিংসতা খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তানেই কেন্দ্রীভূত ছিল।
পাকিস্তান আরও বেশি নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই আরও বেশি শক্তি প্রয়োগ করছে। এটা ভয়ের।
সামরিক পদক্ষেপ নেটওয়ার্কগুলোকে ব্যাহত করতে এবং হামলা প্রতিরোধ করে দিতে পারে। কিন্তু তাদের শক্তি রাজনৈতিক বৈধতার কাজটি করতে পারে না। একটি বিমান হামলা বসতি ধ্বংস করতে পারে; এটি বিচ্ছিন্ন সম্প্রদায়কে বোঝাতে পারে না যে রাষ্ট্র তাদের প্রতিনিধিত্ব করছে। চেকপয়েন্ট নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে; আদালত, পুলিশ বা নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা পুনরুদ্ধার করতে পারে না কখনোই। সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে এলাকা শান্ত করতে পারে; প্রজন্মের পর প্রজন্মের ক্ষোভের সমাধান কিছুতেই করতে পারে না।
পশতুন এলাকাগুলোতে, সম্প্রদায়গুলো একই সাথে দুবৃৃত্তদের বর্বরতা এবং রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগের শিকার হয়েছে। পশতুন তাহাফুজ আন্দোলন একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল, যার দাবি ছিল বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য জবাবদিহিতা, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য, ভূমি মাইন অপসারণ এবং সম্মিলিত সন্দেহের অবসান।
রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া ছিল মূলত নিরাপত্তাকেন্দ্রিকতা। আন্দোলনটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং কর্মীদের বারবার আটক করা হয়েছিল। আলী ওয়াজির সংসদে দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও, তার সক্রিয়তার সাথে সম্পর্কিত থাকায় বারবার মামলার সম্মুখীন হয়েছেন। যখন শান্তিপূর্ণ রাজনীতিকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে গণ্য করা হয়, তখন রাষ্ট্র জঙ্গিবাদের সেই বিকল্পটিকেই বেছে নেয়, যার প্রয়োজনীয়তা সে নিজেই বুঝতে পারে।
বেলুচিস্তানে এই একই বৈপরীত্য আরও স্পষ্টভাবে দেখা দিয়েছে। প্রদেশটি ফেডারেশনকে গ্যাস, খনিজ সম্পদ এবং কৌশলগত গুরুত্ব সরবরাহ করে, তবুও বহু সম্প্রদায় দরিদ্র, রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক এবং তাদের নিজেদের সম্পদের ওপর সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বঞ্চিত।
জোরপূর্বক অন্তর্ধান এই প্রদেশের রাজনৈতিক স্মৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানের নিজস্ব তদন্ত কমিশন ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে ১২৫টি নতুন ঘটনা নথিভুক্ত করেছে, অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে আরও অনেক ঘটনা কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়নি।
২২শে জুন বেলুচ মানবাধিকার কর্মী মাহরাং বেলুচের ওপর আরোপিত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এই পদ্ধতির অসারতা স্পষ্ট করে। যদিও প্রাদেশিক সরকার বিষয়টিকে আইনি বিষয় বলে আখ্যা দিয়েছে। এর রাজনৈতিক বার্তা আদালতের গণ্ডি ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত পৌঁছাবে বলে ধারণা করা যায়। মাহরাং খ্যাতি অর্জন করেছিলেন কারণ তিনি নিখোঁজ আত্মীয়দের খোঁজে থাকা পরিবারগুলোর যন্ত্রণাকে শান্তিপূর্ণভাবে প্রকাশ করেছিলেন। এমন একজন ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ বেলুচকে এই বার্তা দেয় যে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সংলাপের দিকে নয়, বরং কারাবাসের দিকে নিয়ে যায়।
একটি রাষ্ট্র বারবার শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পথ বন্ধ করে দিয়ে, তারপর সহিংস প্রতিরোধের বৃদ্ধিকে সম্পূর্ণ বিদেশি উদ্ভাবন হিসেবে গণ্য করতে পারে না।
এভাবেই বৈধতার সংকট নিরাপত্তা সংকটে পরিণত হয়। শান্তিপূর্ণ অভিযোগগুলোকে নিরাপত্তা আইনে পরিণত করা হয়। রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত হয়। বিচ্ছিন্নতা আরও গভীর হয়। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই ক্ষোভকে কাজে লাগায়। এরপর তাদের সহিংসতা আরও দমনপীড়নের ন্যায্যতা দেয়, যা মূল অভিযোগটিকে অমীমাংসিত রেখেই সেনাবাহিনীর ভূমিকা প্রসারিত করে।
এই চক্রের মধ্যে আফগানিস্তান একটি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে, কারণ এর একটি বাহ্যিক ব্যাখ্যা আছে। ইসলামাবাদ আন্তঃসীমান্ত নেটওয়ার্কের দিকে ইঙ্গিত করতে পারে, কাবুলের কাছে পদক্ষেপের দাবি জানাতে পারে এবং প্রতিটি নতুন সামরিক অভিযানকে বাইরে থেকে আসা হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে।
এই বাহ্যিক মাত্রাটি বাস্তব। কিন্তু যখন কোনো সংকটের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা হিসেবে একে ব্যবহার করা হয়, তখন তা সুবিধাজনক হয়ে ওঠে।
-ইংরেজি থেকে অনুবাদ
