রাঙামাটিতে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক এই দুর্যোগে জেলার অসংখ্য সড়ক, কালভার্ট, বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ও মৎস্য ঘের ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১৩৫টি পাহাড়ধসের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে তিনজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে ঘরবাড়ি ছেড়ে জেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ৬ হাজার ১৫৫ জন মানুষ অবস্থান করছেন। সবমিলিয়ে রাঙামাটি জেলায় এবারের বন্যায় এক লাখের বেশি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বন্যা ও পাহাড়ধসের ঘটনায় জেলায় মোট ১ লাখ ৮ হাজার ৭১৭ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে এই বিপুলসংখ্যক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বিপরীতে সরকারিভাবে যে আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি হিসাব মতে, এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে মাত্র ৩৫ লাখ টাকা এবং ২৯৫ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এর বাইরে ২ হাজার ৩১৪ প্যাকেট শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছে, যা থেকে সুবিধা পেয়েছেন ৩২ হাজার ৫৪৬ জন মানুষ।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের একটি বড় অংশ এখনো সরকারি কোনো ধরনের সহায়তার আওতায় আসতে পারেননি। হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৭৬ হাজার ৭১৭ জন মানুষ এখনো সরকারি সুবিধার বাইরে রয়েছেন। এছাড়া জেলার মোট বরাদ্দকৃত ৩৫ লাখ টাকা এবং ২৯৫ মেট্রিক টন চাল যদি সমস্ত ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়, তবে মাথাপিছু বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় মাত্র ৩২ টাকা এবং ২৭০ গ্রাম চাল। ফলে দুর্গত এলাকায় ত্রাণের জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জোরালো হচ্ছে।
টিএইচএ/
