যমুনা সেতু এলাকায় নির্মাণ হচ্ছে ৫৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র

by Abid vs36

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যমুনা সেতু এলাকায় ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডকে (এনডব্লিউপিজিসিএল) ১২০ একর জমি দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। সোমবার (৩ আগস্ট) সেতু বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ১১৭তম বোর্ড সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন দেওয়া হয়।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বোর্ড চেয়ারম্যান শেখ রবিউল আলমের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সশরীরে ও ভার্চ্যুয়ালি উপস্থিত বোর্ড সদস্যরা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রস্তাব পর্যালোচনা করে মতামত দেন। সভার শুরুতে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে আলোচ্যসূচি এবং পূর্ববর্তী সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন। সার্বিক পর্যালোচনার পর যমুনা সেতু সাইটে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়।

বিজ্ঞাপন
banner

সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যমুনা সেতু এলাকায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে পরিচ্ছন্ন শক্তির সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে এবং কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। এ ছাড়াও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন বিভিন্ন স্থাপনায় পর্যায়ক্রমে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্দেশ্যে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের প্রস্তাবও এই সভায় অনুমোদিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার আরও প্রসারিত করবে।

বোর্ড সভায় অন্যান্য জনকল্যাণমূলক ও অবকাঠামোগত নানা সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়। এর মধ্যে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন প্রক্রিয়া আরও ফলপ্রসূ করতে পুনর্বাসন ভিলেজে ফ্ল্যাট বরাদ্দের বিদ্যমান নীতিমালা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি উত্তরার দিয়াবাড়িতে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল পরিচালনা-সংসংক্রান্ত চুক্তি পুনর্বহাল এবং সেতু নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও গবেষণার কাজে দক্ষ জনবল সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘সেন্টার ফর ব্রিজ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং’ (সিবিআরটি) প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণমূলক সুবিধার্থে ‘বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট বিধিমালা, ২০১০’-এ ‘বার্ষিক বৃত্তি প্রদান’-এর পরিবর্তে ‘বার্ষিক শিক্ষা অনুদান সহায়তা’ শব্দটি প্রতিস্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, বর্তমান সরকার টেকসই উন্নয়ন, সবুজ জ্বালানির প্রসার এবং পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো বর্তমান সময়ের অন্যতম দাবি বলে তিনি উল্লেখ করেন। পরে মন্ত্রী বোর্ডের গৃহীত সব সিদ্ধান্ত দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের কড়া নির্দেশনা দেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগের ফলে অব্যবহৃত সরকারি জমির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের পথ আরও সুগম হবে।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222