রাজধানীতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তর। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর উত্তরায় জামিয়াতুন নূর আল কাসেমিয়া মিলনায়তনে আয়োজিত ‘এসএসসি পরীক্ষা পরবর্তী দ্বীনি মোলাকাত’ অনুষ্ঠানে তাদের সম্মাননা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। তিনি বলেন, ইসলামের আগেও পৃথিবীতে বিভিন্ন ধর্মের আবির্ভাব ছিল, কিন্তু মানবতা ও সভ্যতার পূর্ণাঙ্গ বিকাশ ঘটেনি। রাসুলুল্লাহ (সা.) পৃথিবীতে এসে মানবতা ও সভ্যতার ক্ষেত্রে পরিবর্তন এনেছেন এবং বিশ্ব সভ্যতায় মানবতার নজির স্থাপন করেছেন।
তিনি বলেন, হজরত ঈসা (আ.)-এর পর মুহাম্মদ (সা.) এমন একজন ব্যক্তি, যিনি পৃথিবীকে মানবতা ও সভ্যতার শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর আগমনের মাধ্যমে মানুষের জীবনব্যবস্থা ও সামাজিক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন আসে।
মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, ইউরোপে দীর্ঘ সময় শিক্ষার বিস্তার ঘটেনি। পরে মুসলিম বিশ্বের জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে ইউরোপীয়রা শিক্ষাজগতে প্রবেশ করে। পাঠ-পঠন ও জ্ঞানচর্চার যে ধারা বিশ্বে বিস্তৃত হয়েছে, তার সূচনার সঙ্গে ইসলামের শিক্ষা ও মুসলিম সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইসলাম আসার আগে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ব্যাপক ব্যবস্থা ছিল না। ভারত, চীন, ইউরোপ, ইরান ও ইরাকসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পর শিক্ষার প্রসারে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ইসলামপূর্ব যুগের আইন ও সামাজিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সে সময় পৃথিবীতে সুষ্ঠু আইন ও সামাজিক শৃঙ্খলার অভাব ছিল। ওই সময়কে আইয়ামে জাহেলিয়াত বলা হয়। বিভিন্ন শাসকের অত্যাচার, জুলুম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাসুলুল্লাহ (সা.) মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচারের শিক্ষা প্রতিষ্ঠা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সভাপতি রিদওয়ান মাযহারী। তিনি শিক্ষার্থীদের ব্যক্তি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে ছাত্র জমিয়তের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন।
ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি আমিন হোসাইনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমি, দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক মুফতি মহিউদ্দিন মাসুম, নির্বাহী সদস্য মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমি ও মাওলানা এখলাছুর রহমান রিয়াদ।
বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সিনিয়র সহসভাপতি মুহাম্মদ নূর হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক সাদ বিন জাকির ও সহসাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ আহমদ সিরাজ।
অনুষ্ঠানে এসএসসি ও এইচএসসি উত্তীর্ণ প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থীকে সম্মাননা দেওয়া হয়। সম্মাননা হিসেবে তাদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা। পরে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
