৩৬নিউজ প্রতিবেদন>>
দরজায় কড়া নাড়ছে মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ গণ জমায়েত বিশ্ব ইজতেমা। চলতি মাসের শেষ দিন কহর দরিয়াখ্যাত টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে শুরু হবে প্রতীক্ষিত এই ইজতেমার ৫৮তম আয়োজন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ব ইজতেমা সামনে রেখে ময়দান প্রস্তুতের কাজে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক তাবলিগ জামাতের সাথী-মুসল্লি, মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক ও নানা শ্রেণি পেশার মানুষজন স্বেচ্ছাশ্রমে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
তুরাগ তীরের ১৬০ একরের বিশাল ময়দানে পুরোদমে চলছে প্রস্তুতির কাজ। মূল মঞ্চ তৈরি, বাঁশ পোঁতা, সামিয়ানা টানানো, খিত্তা নাম্বার লাগানো, হাউজ পরিচ্ছন্ন করা, ধুয়েমুছে টয়লেটকে ব্যবহার উপযোগী করা, খিত্তাভিত্তিক মাইক বাধা ও বৈদ্যুতিক বাতি টানানোসহ নানা কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবী তীব্র শীত ও বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে কাজ করছেন টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে। দ্বীনের কাজে আগত লোকদের মেহমানদারি করা কর্তব্য উল্লেখ করে মুসল্লিরা বলছেন, কেবল সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভের আশায় শ্রম দিচ্ছেন তারা। দ্বীনের এ কাজের অংশীদার হতে পেরে খুশি বলেও জানান।
নারায়ণগঞ্জ থেকে আগত তাবলিগের সাথী সবুজ মিয়া বলেন, আমাদের এলাকা থেকে প্রতি বছরই আমরা দল বেঁধে ময়দানের কাজে আসি। আমার সঙ্গে আমার ছেলেকেও নিয়ে এসেছি। আমরা মনে করি এই কাজ করতে পারা আমাদের জন্য সৌভাগ্য। ওলামা হজরতদের নির্দেশে আমরা কাজ করছি।
পুরান ঢাকা থেকে আগত আরেক মুসল্লি বলেন, এই মাসের ৩১ ও ফেব্রুয়ারির ১, ২ তারিখ এ বছর বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য বছর আরো আগে এসব কাজ হয়ে যায়। কিন্তু এই বছর সাদপন্থীদের নানা ঝামেলার কারণে কাজ বিলম্ব হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, সাথীভাইদের অক্লান্ত পরিশ্রমে মাঠ মোটামুটি প্রস্তুত। আরোকিছু কাজ বাকি। আমরা জামাত জামাত ভাগ হয়ে কাজ করছি।
এদিকে মাঠ প্রস্তুতের বিষয়ে কথা হয় তাবলিগের শুরায়ী নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হানের সঙ্গে।
তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, এবার দেরিতে হলেও মাঠ প্রস্তুতির কাজ যথাসময়েই সম্পূর্ণ হবে ইনশাআল্লাহ।
কাজ দেরিতে শুরু করার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আসলে ইজতেমার জন্য মাঠ প্রস্তুতকরণ কাজ আমাদের অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। মাঝখানে আমাদের যে সমস্ত তাবলিগের সাথীভাইয়েরা মাঠ প্রস্তুতির কাজে নিয়োজিত ছিলেন, সাদপন্থীরা প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে অমান্য করে যে জোড় ইজতেমা করার ঘোষণা টঙ্গী ময়দানে দিয়েছিল, তারা সেই ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে, গত ১৭ ডিসেম্বর গভীর রাতে আমাদের প্রস্তুতির কাজে নিয়োজিত সাথীদের মেরে রক্তাক্ত করে। এতে আমাদের তিনজন সাথী নিহত হন এবং শতাধিক সাথী আহত হন। এজন্য কাজে দেরি হয়েছে।’
