নুর আলম সিদ্দিকী>>
আগামী ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলা-২০২৫। বিগত বছরগুলোর মতো এবারও মেলার আয়োজন হচ্ছে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। এবার নতুনভাবে সাজানো হয়েছে বাঙালি সংস্কৃতি ও সাহিত্যপ্রেমীদের এ বিশেষ অনুষ্ঠান।

প্রতিবছরের মতো বইমেলায় দেশি-বিদেশি লেখকদের নতুন বইয়ের আয়োজন করা হলেও, এবারের মেলায় কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা প্রকাশনীর স্টল বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছিল, এবার তাদেরও স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বইমেলায় উপস্থিত থাকছে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান।
বাংলা একাডেমির এ সিদ্ধান্তে বিশেষ করে প্রকাশকদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার সৃষ্টি করেছে। অনেক প্রকাশক তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে জানান, এবার স্টল বরাদ্দ পাওয়ায় তারা তাদের নতুন বইগুলোর প্রচার-প্রসারে আরও ভালোভাবে অংশ নিতে পারবেন।

রাহনুমা প্রকাশনীর স্বত্ত্বাধিকারী দেওয়ান মো. মাহমুদুল ইসলাম বলেন, “রাহনুমা প্রকাশনী সবসময়ই জ্ঞান-বিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচনে আগ্রহী। আমরা বিশ্বাস করি, বই হলো মানুষের চিন্তা-চেতনা ও সৃষ্টির জগতে অমূল্য এক উপাদান। এবারের বইমেলায় আমাদের লক্ষ্য কেবলমাত্র নতুন বই প্রকাশ করা নয়, বরং সারাদেশে জ্ঞান-বিজ্ঞান উদ্ভাবনের প্রতি পাঠকদের আগ্রহ ও মনোযোগ আকর্ষণ করা। আমরা আমাদের প্রকাশনীকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই বইমেলাকে সহায়ক মনে করি।
আমরা আশা করি, এই মেলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তা ও জ্ঞানের সঙ্গে পরিচিত হবে এবং ভবিষ্যতে তাদের মধ্যে উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ ঘটবে।”

কাতেবিন প্রকাশনীর স্বত্ত্বাধিকারী সাবেত চৌধুরী বলেন, “এটি আমাদের প্রকাশনী এবং আমাদের লেখকদের জন্য এক বিশাল সুযোগ, যার মাধ্যমে আমরা আমাদের সাহিত্যকর্ম আরো বড় পরিসরে তুলে ধরতে পারব। কাতেবিন প্রকাশনী সর্বদা নতুন চিন্তা ও গবেষণার উপর ভিত্তি করে বই প্রকাশের চেষ্টা করে আসছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করা এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ সৃষ্টি করা। এই বইমেলা আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ, যেখানে আমরা আমাদের পাঠকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে পারব এবং তাদের সামনে নতুন ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে পারব।

প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান কাননের স্বত্ত্বাধিকারী আব্দুর রহমান জানান, “দীর্ঘদিন পর এই বইমেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছি, যা আমাদের জন্য একটি বিশেষ অর্জন। ধন্যবাদ জানাই বাংলা একাডেমি এবং বইমেলা কর্তৃপক্ষকে। এটি শুধু আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশের জন্যও একটি বড় পদক্ষেপ।
আশা করি, এবারের বইমেলা আমাদেরকে নতুন পাঠক এবং লেখকদের সঙ্গে পরিচিত করাতে সাহায্য করবে এবং বাঙালি সাহিত্য আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।”
এদিকে, বইমেলা উপলক্ষে নতুন বইয়ের উদ্বোধন, সেমিনার, সাহিত্য আড্ডা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। দেশ-বিদেশের লেখক ও সাহিত্যিকদের অংশগ্রহণে বইমেলা ২০২৫ এক অনন্য অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করছেন আয়োজকরা।

বাংলা একাডেমির কর্মকর্তারা জানান-
বইমেলার আয়োজন সবার জন্য উন্মুক্ত এবং সবার অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। এর মাধ্যমে সৃজনশীন সাহিত্যের বিকাশ আরও প্রাণবন্ত হবে এবং বাঙালি সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি আরও আগ্রহ সৃষ্টি হবে।
এবারের বইমেলা শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং একটি সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বাঙালি সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অন্যতম উৎসব হিসেবে পরিণত হবে, এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

স্টল পেলেন যারা
বইমেলায় নতুন করে স্টল বরাদ্দ পেয়েছে- কাতেবিন প্রকাশন, কাশবন প্রকাশন, সুকুন পাবলিশিং, বৃত্তকলা একাডেমি, মাকতাবাতুল ফুরকান, বুক স্ট্রিড, সূর্যদয় প্রকাশন, মুজাহিদ প্রকাশনী, আশরাফিয়া বুক হাউস, মুসলিম ভিলেজ, বেনজিন প্রকাশন, ইসলাম হাউজ পাবলিকেশন, হোসাইনিয়া লাইব্রেরী, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, সোজলার পাবলিকেশন, সিঁড়ি প্রকাশন, নন্দন, সন্ধান পাবলিকেশন, মীনা বুক হাউজ, স্বরবর্ণ প্রকাশনী, নটিলাস পাবলিকেশন, উৎকর্ষ, সফা প্রকাশনী, ইচ্ছে স্বপ্ন প্রকাশনী, লেখাচিত্র প্রকাশনী, হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, সূচীপত্র, কুরআন রির্সাচ ফাউন্ডেশন, বিন্দু প্রকাশ, সাইফুরস পাবলিকেশন্স, সবুজপত্র পাবলিকেশন্স, মনিহার বুকডিপো, শব্দচাষ প্রকাশ, রাওয়া পাবলিকেশন, মাকতাবাতুল আযহার, বিআইআইটি পাবলিকেশন্স, কালান্তর প্রকাশনী, গার্ডিয়ান পাবলিকশন্স, ইলহাম, মাকতাবাতুল আসলাফ, স্কলারস পাবলিকেশন, সৃজন, বাংলা সাহিত্য পরিষদ, মাসিক মদীনা পাবলিকেশন্স, ইতিবৃত্ত প্রকাশন, পারিজাত প্রকাশনী, ফিউচার উম্মাহ বিডি, অবনি প্রকাশ, প্রচ্ছদ, ইছামতি প্রকাশনী, সিম্পোজিয়াম প্রকাশনী, নব আলো পাবলিকেশন্স, পথিক প্রকাশন, প্রহেলিকা প্রকাশন, স্বরলিপি পাবলিকেশন, মাকতাবাতুস সাহাবা, আলোকিত প্রকাশনী, মক্তব প্রকাশন, নিরাপদ প্রকাশনী, দারুল ইলম পাবলিকেশন, নতুন প্রকাশন, ইত্তিহাদ পাবলিকেশন, পরিলেখ প্রকাশনী, দশমিক, দোলন, আনন্দলোক, অনশ্বর প্রকাশন, মুহম্মদী লাইব্রেরী, নান্দিক, কানন প্রকাশন, লিটল উম্মাহ, বইমই প্রকাশনী, পুথি প্রকাশ, দারুস সালাম বাংলাদেশ, জ্ঞান বিতরণী, বাডস্ (শিশু), সমকালীন প্রকাশন লিমিটেড, নাগরিক প্রকাশন, নাগরিক প্রকাশন, কোয়ালিটি পাবলিকেশন, বই অঙ্গণ প্রকাশন, বর্ণবিচিত্রা, সাহিত্য কুটির, চিন্তাসূত্র, গাইডেন্স পাবলিকেশন্স।
এমএনএকে/
