৭ মাস আগে আসিফকে নিয়ে আ.লীগের পোস্টের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে দুদকের অভিযোগ!

by hsnalmahmud@gmail.com

নিয়োগ-পদায়ন, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্য, টেন্ডার এবং উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এর পাশাপাশি চার দেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি। এসব অভিযোগের বেশ কয়েকটি তথ্যের সঙ্গে প্রায় সাত মাস আগে আওয়ামী লীগ সমর্থিত দৈনিক আজকের কণ্ঠের ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্টে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের মিল পাওয়া যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
banner

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুদক সূত্রে জানা গেছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম এবং দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে সংস্থাটি।

দুদকের কাছে পাওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করেছেন আসিফ মাহমুদ। এসব অর্থ দিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে বিলাসবহুল ভিলা কেনা ও বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। তার দুই বোনজামাই ও এক ভাগ্নের মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে।

গত (১১ ফেব্রুয়ারি) আ. লীগ সমর্থিত দৈনিক আজকের কণ্ঠের ওই পোস্টেও আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে চার দেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। পোস্টে দাবি করা হয়, দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। চার দেশের অঙ্ক যোগ করলে ওই পোস্টে মোট পাচারের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ হাজার কোটি টাকা।

আজকের কণ্ঠের ওই পোস্টে এসব অর্থ দিয়ে দুবাইয়ে বিলাসবহুল ভিলা ও ফ্ল্যাট কেনা, সিঙ্গাপুরে ব্যবসায় বিনিয়োগ, অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ি ও হোটেল কেনা এবং সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে অর্থ রাখার অভিযোগ তোলা হয়েছিল।

বর্তমান দুদকের অনুসন্ধানে অর্থ পাচারের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন টেন্ডার বাণিজ্যের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে ওই ফেসবুক পোস্টের সঙ্গে প্রায় আট মাস পর দুদকের বর্তমান অনুসন্ধানের অভিযোগের মিল পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, আগে প্রকাশিত ওই অভিযোগের সঙ্গে দুদকের বর্তমান অনুসন্ধানের এতটা মিল কীভাবে হলো।

ওই পোস্টের কমেন্টে একজন লিখেছেন, ‘প্রোপাগান্ডা ফেসবুক পেজ আজকের কণ্ঠ গত ফেব্রুয়ারিতে প্রথম আসিফের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ আনে কারও বক্তব্য এবং ন্যূনতম তথ্যসূত্র ছাড়া। সেটা হুবহু পড়ে শুনিয়ে দুদক আট মাস পর এসে সেটা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

আজকের কণ্ঠের ওই পোস্টেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে কমিশন, উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য এবং ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ করা হয়েছিল। শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ব্যয় বাড়ানোর অভিযোগও ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ওই অনুসন্ধানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য, কেনাকাটায় সিন্ডিকেটসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে দুদক সূত্র জানায়, নতুন করে পাওয়া অভিযোগগুলোর বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের তথ্যমতে সংস্থাটির কাছে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১টি দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে-

উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি

আসিফ মাহমুদ স্থানীয় সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালীন সময়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা দুর্নীতি করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের আওতায় কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের পঁচিশ শতাংশ অর্থ উপদেষ্টাকে দিতে হতো। তা নাহলে অর্থ ছাড় করা হতো না। উপদেষ্টার কথিত প্রেস সেক্রেটারি মাহফুজ আলম এই কমিশন বাণিজ্য তদারকি করতেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ওয়াসার এমডি নিয়োগে কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় আব্দুস সালামকে। তাকে বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় ঢাকা ওয়াসার (এমডি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে, তিনি ছিলেন একই সংস্থার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী। এ পদে চাকরিকালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। আব্দুস সালামের কানাডায় বাড়ি আছে। অভিযোগ বলা হয়েছে, উপদেষ্টাকে ১০ কোটি টাকা দিয়ে এই পদ বাড়িয়ে নিয়েছিলেন সালাম। এর মধ্যে ৮ কোটি টাকা দুবাইয়ে আল আনসারি মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়। বাকি দুই কোটি টাকা নগদ পরিশোধ করা হয়েছে। বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর গত আট মার্চ সালামকে পদত্যাগ করতে বলা হলে তিনি পদত্যাগ করেন।

উত্তর সিটিতে প্রশাসক নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য

২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক হিসেবে মোহাম্মদ এজাজকে এক বছরের জন্য নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, আসিফ মাহমুদের সঙ্গে লেনদেনের মাধ্যমে এই নিয়োগ চূড়ান্ত হয়। নগদ ২০ কোটি টাকা এবং সিটি করপোরেশনের সকল কাজে নিয়মিক ১০ শতাংশ কমিশনের শর্তে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছিল। ঘুষ দিয়ে নিয়োগ পেয়ে এজাজ বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন। একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে অপসারণ করা হয়। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এখন দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করছে। দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তকারীদের নজরে থাকা ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত পয়লা ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। ডিএনসিসির অধীন মিরপুর গাবতলী পশুর হাট ইজারা, ই-রিকশা প্রকল্প, বোরাক টাওয়ার বা হোটেল শেরাটনের ভাগ, বনানী কাঁচাবাজারে দোকান বরাদ্দ, খিলগাঁও তালতলা সুপার মার্কেটের পার্কিং স্থানে দোকান নির্মাণ ও বরাদ্দ, সিটি করপোরেশনের ভ্যান সার্ভিস, ফুটপাতে দোকান বরাদ্দ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্য নানা বিষয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার কথা বলছে দুদক। কিন্তু এজাজের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, আসিফ মাহমুদের টাকা জোগাড় করতেই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন এজাজ।

স্হানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরে বদলি বাণিজ্য

স্হানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর ছিল আসিফের অবৈধ অর্থ উপার্জনের অন্যতম উৎস- এ রকম অভিযোগ করে বলা হয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্পের পিডি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে টাকার বিনিময়ে। একজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে তার পছন্দের জায়গায় বদলি করতে কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অধিদপ্তরের সব টেন্ডারের কার্যাদেশ দেওয়ার আগে উপদেষ্টার সঙ্গে লেনদেন চূড়ান্ত করতে হতো। না হলে টেন্ডার বাতিল করে দেওয়া হতো।

গত বছর ডিসেম্বরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরে সবচেয়ে বড় দুর্নীতির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। ১৮ ডিসেম্বর একযোগে ১৬ জন নির্বাহী প্রকৌশলীকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। একযোগে দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ জেলায় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব প্রদান নজিরবিহীন ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা। গত বছরের ৩ নভেম্বর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিমকে প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে। এ নিয়ে অধিদপ্তরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে দুর্নীতি

এই অধিদফতরের একাধিক প্রকল্পে শতাধিক কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে আসিফের বিরুদ্ধে। এই অধিদপ্তর গত বছরের জুলাই মাসে তিন বছর মেয়াদি গ্রামীণ সেনিটেশন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এই প্রকল্পের বিপুল টাকা লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে। অন্তত ১০টি জায়গায় কোনো ধরনের কাজ না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে। এছাড়া, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে পদোন্নতি ও পদায়নেও আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

টেন্ডার বাণিজ্য

দুদকে দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার টেন্ডার নিষ্পত্তি হয়েছে। সব টেন্ডারই ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত উৎকোচ নিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। তার কথিত প্রেস সেক্রেটারি প্রতিটি টেন্ডারে হস্তক্ষেপ করেছেন। লেনদেন চূড়ান্ত হবার পরই কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি কল রেকর্ডও চিঠির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

পদায়ন বাণিজ্য

২০২৪ সালে আগস্ট থেকে বিদায়ের আগে পর্যন্ত জনপ্রশাসনের কাজে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতেন আসিফ মাহমুদ, এ রকম লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে বেশ কয়েকটি। সারা দেশে জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগে আসিফ মাহমুদ ৪৮টি ডিও লেটার দিয়েছিলেন। যার মধ্যে ৩৬ জনকেই ডিসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। জেলাভেদে ডিসি পদায়নে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত অবৈধ লেনদেন হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। শুধু ডিসি নয়, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরের এবং প্রকল্পের দায়িত্ব পেতে, এমনকি সচিব পদে পদোন্নতির জন্যও আসিফ মাহমুদের কাছে তদবির করতেন সরকারি কর্মকর্তারা। মোটা অঙ্কের লেনদেন চূড়ান্ত হলেই আসিফ তদবির শুরু করতেন।

এপিএস বিতর্ক

আসিফ উপদেষ্টা হবার পর তার এপিএস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় মো. মোয়াজ্জেম হোসেনকে। আসিফ মাহমুদের লিখিত অনুরোধে তাকে এই নিয়োগ দেওয়া হয়। মোয়াজ্জেম হোসেন আসিফ মাহমুদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দায়িত্ব নেওয়ার পরই মোয়াজ্জেম বেপরোয়া হয়ে ওঠেন, সচিবালয়ে প্রকাশ্যে টাকা লেনদেনের ঘটনা ঘটে। টাকা নিয়ে কাজ করে না দেওয়ায় উপদেষ্টার অফিসের সামনে ঠিকাদারের হট্টগোলের ঘটনাও‍ ঘটে। আসিফের এপিএসের বিরুদ্ধে ৬০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। টাকার বিবরণ দিয়ে দুদকে চিঠি পাঠানো হয়। দুদক চেয়ারম্যান এই চিঠি দেন প্রধান উপদেষ্টাকে। প্রধান উপদেষ্টা কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে এপিএসকে সরিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন আসিফকে। তখন আসিফ তার বন্ধুকে সরিয়ে দিয়ে তাকে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, মোয়াজ্জেম হোসেন এখন দুবাইয়ে আছেন। সেখানে তিনি আসিফের অবৈধ সম্পদ তদারকি করছেন বলে জানা গেছে। আসিফ ও মোয়াজ্জেম মিলে সেখানে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করেছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এরপর ড. ইউনূসের নির্দেশে এপিএসের দুর্নীতি তদন্তের নাটক হয়। সেই নাটক এখনো চলছে।

পিতার নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স

আসিফ মাহমুদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হবার পর তার পিতা বিল্লাল হোসেনের প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইসরাত এন্টারপ্রাইজকে গত বছরের মার্চ মাসের ১৬ তারিখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। এটি ফাঁস হয়ে গেলে, আসিফ ওই লাইসেন্স বাতিল করেন বটে, কিন্তু তার পিতাই কুমিল্লা অঞ্চলে ঠিকাদারির মূল নিয়ন্ত্রক। এলাকার সব কাজের জন্য তার কাছেই ধরনা দিত লোকজন।

ক্রিপ্টোকারেন্সি বিতর্ক

আসিফ মাহমুদ ব‍্যাংক হিসাব সংবাদ সম্মেলন করে প্রকাশের পর সমালোচনার ঝড় ওঠে। সবাই বলতে শুরু করে, চুরির টাকা কেউ কী ব‍্যাংকে রাখে? বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদের বেশিরভাগ অর্থই ক্রিপ্টোকারেন্সি করে রাখা। এছাড়া, দুবাইয়ে আসিফ সম্পদ এবং বিনিয়োগ করেছেন বলে জানা গেছে।

১৮ মাস উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আসিফ মাহমুদ শুধু বিতর্ক আর অনিয়মের কারণে আলোচিত হয়েছেন। তিনি হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করেছে বিভিন্ন মহল।

সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তার বিচার ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।

দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বলেন, এ ধরনের অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222