ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম বলেছেন, ইসলামি সমাজ ব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে মাদরাসাগুলোকে ঢেলে সাজাতে হবে। শিক্ষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা, প্রতিষ্ঠানসমূহকে দলীয় রাজনীতির ছত্রছায়া মুক্ত করতে পারলে আমাদের কর্মপ্রক্রিয়া অনেকটা সহজ হবে। কারিকুলাম ও পাঠ্যপুস্তক থেকে অপ্রয়োজনীয় ও অসঙ্গতিপূর্ণ বিষয়সমূহ বাদ দিয়ে দ্বীনি শিক্ষার মূল লক্ষ্যকে সামনে রেখে অগ্রসর হতে হবে। আমরা সে পথেই অগ্রসর হচ্ছি।
বৃহস্পতিবার সিলেট জেলা ও মহানগরস্থ ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় অধিভূক্ত মাদরাসাসমূহের প্রিন্সিপালবৃন্দের সমন্বেয়ে মাদরাসা শিক্ষার মান উন্নয়নে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা ও আমাদের প্রত্যাশা শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাদরাসা শিক্ষক কর্মচারীদের পেশাজীবী অরাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের মহাসচিব প্রিন্সিপাল শাব্বীর আহমদ মোমতাজী বলেন, কেবল মাদরাসা অনুমোদন, মঞ্জুরি ও নতুন নতুন মাদরাসা প্রতিষ্ঠা আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ নয়। দেশের ফাযিল-কামিল মাদরাসাগুলোকে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসম্পন্ন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন বিষয় ভিত্তিক জ্ঞানে পান্ডিত্ব অর্জনে সক্ষম হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি মাদরাসা পরিচালনা কমিটি যেন দালীয় প্রভাবমুক্ত থাকে সে ব্যাপারে আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে অনুরোধ জানান।
তিনি আরো বলেন, দেশের শিক্ষার্থীরা যেমনিভাবে মদিনা, আল-আজহার, ইরানে গিয়ে অধ্যায়ণের মাধ্যমে সুখ্যাতি অর্জন করে, তদ্রুপ আমাদের দেশে যেন বহির্বিশ্ব থেকে শিক্ষার্থী এসে গৌরবোজ্জ্বল ভবিষ্যত গড়ার স্বপ্ন দেখে সেই মানের প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে হবে। আলেম ওলামা, পীর-মাশায়েখদের শতবছরের প্রাণের দাবির ফসল ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, অভ্যন্তরীন কোন্দল ও নিজেদের উদরপূর্তীর জন্য যেন এ ঐতিহাসিক বিশ্ববিদ্যালয় নিজ স্বাতন্ত্র না হরায়, লক্ষচ্যুত না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য যেসকল মহামুরুব্বীগণ আন্দোলন, সংগ্রাম করেছেন তাদের সিংহভাগই কবরবাসী হয়েছেন। আমাদের এমনিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে যেমনটি তারা চেয়েছিলেন।
এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা লুৎফর রহমান হুমাইদী, প্রিন্সিপাল মাওলানা এ কে এম মনোওর আলী, এছাড়াও বক্তব্য রাখেন প্রিন্সিপাল ফরিদ উদ্দীন আতহার, ভাইস প্রিন্সিপাল সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার, প্রিন্সিপাল মাওলানা জাকির হোসাইন, প্রিন্সিপাল ড. মাওলানা মূঈনুল ইসলাম পারভেজ, প্রিন্সিপাল মাওলানা নুমান আহমদ, সহযোগি অধ্যাপক মাওলানা ফদলুর রহমান, ড. মো. জিয়াউর রহমান, প্রিন্সিপাল ড. শাহিদ আহমদ বোগদাদী, ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুর শাকুর, প্রিন্সিপাল মাওলানা ছালেহ আহমেদ, প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. আব্দুল মুক্তাদির খান প্রমুখ।
এমএনএকে/
