উইপাওয়ার আন্তর্জাতিক জ্বালানি সম্মেলনে দেশের একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন রুয়েট শিক্ষার্থী

by Abid vs36

রুয়েট প্রতিনিধি: দক্ষিণ এশিয়ার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নারীদের অন্যতম বৃহৎ পেশাগত নেটওয়ার্ক ‘উইপাওয়ার’ (WePOWER)-এর চতুর্থ আঞ্চলিক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী সুমাইয়া আখতার দিপা। তিনি বর্তমানে জেড. এইচ. শিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

গত ৪ ও ৫ জুন শ্রীলঙ্কার নেগোম্বো শহরে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে উইপাওয়ার। মর্যাদাপূর্ণ এই আয়োজনে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেন। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নেতৃত্ব বিকাশ, প্রযুক্তিখাতে নারীর অংশগ্রহণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বিষয়ে বিভিন্ন সেশন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে সম্মেলনটি সম্পন্ন হয়।

বিজ্ঞাপন
banner

জানা গেছে, ‘শক্তিকন্যা’ নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচির শীর্ষ পারফর্মারদের মধ্য থেকে নির্বাচিত সাতজন বাংলাদেশি প্রতিনিধি এ সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। তাদের মধ্যে রুয়েট থেকে একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন সুমাইয়া আখতার দিপা, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি গৌরবজনক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সম্মেলনের অংশ হিসেবে প্রতিনিধিরা বিভিন্ন নেটওয়ার্কিং কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার পুত্তালাম অঞ্চলে অবস্থিত একটি বায়ুশক্তিভিত্তিক নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা আধুনিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ, পরিচালনা ব্যবস্থা এবং টেকসই জ্বালানি উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান।

নিজের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সুমাইয়া আখতার দিপা বলেন, শক্তিকন্যা কেবল একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নয়, এটি আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্ব বিকাশের এক অনন্য যাত্রা। শীর্ষ পারফর্মার হিসেবে উইপাওয়ার-এর আঞ্চলিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া ছিল অত্যন্ত গর্বের। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করার অভিজ্ঞতা তাকে সমৃদ্ধ করেছে। বিশ্বব্যাংক, উইপাওয়ার এবং শক্তিকন্যার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, সম্মেলনের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার সংস্কৃতি ও মানুষের আন্তরিকতা তাকে মুগ্ধ করেছে, যা তার পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থীদের এমন অংশগ্রহণ ও সাফল্য বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণার উৎস। একই সঙ্গে জ্বালানি ও প্রযুক্তিখাতে নারীদের নেতৃত্ব বিকাশ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও এ অর্জন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রুয়েটের শিক্ষার্থীরা যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিনিয়ত নিজেদের সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন, সুমাইয়া আখতার দিপার এ গৌরবময় অর্জন তারই আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222