রুয়েট প্রতিনিধি: রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ছাত্র হল-২ থেকে চোর সন্দেহে এক যুবককে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হলের ভেতরে প্রবেশের সময় তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে হল প্রশাসন তাকে আটক করে। পরবর্তীতে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে ছাত্র হল ২ এর বিভিন্ন তলায় ধারাবাহিকভাবে বাথরুমের শাওয়ার হেড চুরির ঘটনা ঘটছিল। হলের পূর্ব ও পশ্চিম ব্লকের চতুর্থ থেকে দশম তলা পর্যন্ত বিভিন্ন বাথরুম থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২২টি শাওয়ার হেড নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। একের পর এক এই চুরির ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে হলের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
হলের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক ব্যক্তি হলের ভেতরে প্রবেশ করলে তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। এ সময় হলের কেয়ারটেকার আনোয়ার হোসেন রাজন তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটকের উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটক ওই ব্যক্তি রাজশাহীর চরঘাট উপজেলার বাসিন্দা। ঘটনার সময় ছাত্র হল ২ এর প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আলাল হোসেন, সহকারী প্রভোস্ট মো. জুনায়েদ হোসেন, রেদওয়ানুল হক এবং মোহাম্মদ রাসেল আহম্মেদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার প্রধান আবুল হাসেম ও আনসার প্লাটুন কমান্ডার শাহিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং আটক ব্যক্তিকে নিরাপত্তা শাখার হেফাজতে নিয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে হলের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আলাল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হল প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বর্তমানে হলে চারজন নিরাপত্তারক্ষী নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন এবং রাতের বেলায় দুইজন নিরাপত্তারক্ষী সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকেন। হলের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সিসিটিভি ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি জানান, হলের প্রতিটি তলায় এখনও ক্যামেরা স্থাপন করা সম্ভব না হলেও এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং শিগগিরই প্রয়োজনীয় স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক এই চুরির ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও কার্যকর করার জোর দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের মতে, প্রতিটি তলায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, প্রবেশপথে কড়াকড়ি নজরদারি এবং নিরাপত্তা কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা হলে হলের অভ্যন্তরে এ ধরনের চুরির ঘটনা পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব হবে।
টিএইচএ/
