মো. রেজওয়ান (রাবি প্রতিনিধি): সেশনজট, কারিকুলাম প্রণয়নে বিলম্ব এবং উপস্থিতি ব্যবস্থাপনায় অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের অফিস রুম ও সভাপতির কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টার দিকে এই কর্মসূচি শুরু করেন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা একাডেমিক কার্যক্রমে অনিয়ম, ক্লাসের সময়সূচিতে অসামঞ্জস্য এবং উপস্থিতি গণনায় পরিবর্তনের কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে তারা নির্ধারিত পরীক্ষা বর্জনেরও ঘোষণা দিয়েছেন এবং দ্রুত সমস্যার সমাধানসহ প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানোর দাবি জানিয়েছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সেশনজট, কারিকুলাম প্রস্তুতে বিলম্ব এবং উপস্থিতি ব্যবস্থাপনার অসঙ্গতির কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনার্স শেষ করতে তাদের প্রায় পাঁচ বছর সময় লেগেছে, এরপর কারিকুলাম না থাকায় মাস্টার্স শুরু হতেও ছয় মাস দেরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিভাগে ক্লাস অনিয়মিতভাবে নেওয়া হয়েছে এবং একটি ক্লাসে একাধিক উপস্থিতি গণনার কারণে অনেক শিক্ষার্থী ৬০ শতাংশ উপস্থিতির শর্ত পূরণ করতে পারেননি। ফলে তারা পরীক্ষায় অংশ নেওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই বিষয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি।
শিক্ষার্থীদের একাংশ অভিযোগ করেন, করোনা পরবর্তী একাডেমিক জট ও বিভাগীয় অব্যবস্থাপনার কারণে অনার্স ও মাস্টার্স কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের বাইরে চলে গেছে। মাস্টার্সের ক্লাস দেরিতে শুরু হওয়া এবং পূর্বঘোষণা ছাড়া অতিরিক্ত উপস্থিতি গণনার কারণে অনেক শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক ডিসকলেজিয়েট করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের তুলনায় প্রায় দুই বছর দেরিতে স্নাতক সম্পন্ন হওয়া এবং ফল প্রকাশেও দীর্ঘ সময় লাগার কারণে সামগ্রিকভাবে তাদের শিক্ষাজীবনে বড় ধরনের বিলম্ব তৈরি হয়েছে। একটি পঁয়তাল্লিশ মিনিটের ক্লাসে দুই থেকে চারটি পর্যন্ত উপস্থিতি দেওয়া হচ্ছে বলেও শিক্ষার্থীরা দাবি করেন।
সার্বিক বিষয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. কাজি রবিউল আলম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়মানুযায়ী ৬০ শতাংশ উপস্থিতি না থাকায় কিছু শিক্ষার্থীকে ফরম ফিলাপ ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে অন্য শিক্ষার্থীরা তাদের সহপাঠীদের বাদ দিয়ে পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং পরীক্ষা শুরুর আগেই তা বর্জন করে। শিক্ষকদের নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া এবং এক ক্লাসে একাধিক উপস্থিত খাতা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগীয় প্রধান বলেন, এ ধরনের কোনো বিষয় অফিশিয়ালি তাদের জানানো হয়নি। শিক্ষার্থীরা কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখায় শিক্ষকেরা কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক বা সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না।
টিএইচএ/
