মোঃ নিজাম উদ্দিন স্বাধীন >>
খুলনার আলোচিত-সমালোচিত নারী ব্যবসায়ী নাসরিন সুলতানা তন্দ্রা ওরফে নাসরিন পারভেজ তন্দ্রাকে সম্প্রতি ঢাকা বিমানবন্দর থেকে আটক করে খুলনায় পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি খুলনা জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত খুলনা মহানগর যুব মহিলা লীগের এই নেত্রীর বিরুদ্ধে উঠেছে ভয়াবহ নারী বাণিজ্য, ব্ল্যাকমেইলিং ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ।
বিমানবন্দরে গ্রেফতার
গত ২৬ মে মালয়েশিয়া থেকে ঢাকায় অবতরণ করেন তন্দ্রা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কেএমপির গোয়েন্দা পুলিশ বিষয়টি জানালে বিমানবন্দর থানা পুলিশ তাকে আটক করে। খুলনা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি তৈমুর ইসলাম জানান, খুলনা সদর থানার ১৮ মার্চের একটি মামলার (নং ২৪) সন্দেহভাজন আসামি ছিলেন তন্দ্রা।
সমাজসেবিকা থেকে বিত্তবতী
প্রথম জীবনে এনজিওকর্মী ছিলেন তন্দ্রা। সংসার ভেঙে যাওয়ার পর জীবনযুদ্ধে হেরে গিয়ে এক সময় পা রাখেন অনৈতিক জগতে। খুলনার রিয়াবাজার সংলগ্ন একটি ফ্ল্যাট থেকে শুরু হয় তার দেহব্যবসার সাম্রাজ্য। পরে ধীরে ধীরে খুলনার বয়রা, খালিশপুর, রায়েরমহল, মুজগুন্নি আবাসিক এলাকা পর্যন্ত তার রংমহলের বিস্তার ঘটে।
রংমহলের গোপন গল্প
তন্দ্রা খুলনার রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ‘মনোরঞ্জনের’ জন্য বিশেষ ফ্ল্যাটে নারীদের জড়ো করতেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব নারীদের দিয়ে জোরপূর্বক করানো হতো অনৈতিক কাজ। দেশের অভিজাত রিসোর্টে নেতাদের মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করতেন তিনি, সরবরাহ করতেন মডেল ও উঠতি অভিনেত্রীদেরও।
প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠ
তন্দ্রা আওয়ামী লীগের একাধিক সংসদ সদস্য ও মেয়রের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সেই সুবাদে দলীয় পদও লাভ করেন। তিনি সোনাডাঙ্গা থানা যুব মহিলা লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং একটি পুলিশিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদেও ছিলেন। পরবর্তীতে যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও কাজ করেন।
ব্ল্যাকমেইলিং ও অর্থ আত্মসাৎ
বড় ব্যবসায়ী ও রাজনীতিকদের ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করতেন তন্দ্রা। অনেকেই তার হাতে সর্বস্ব হারিয়েছেন। এমনই এক ভুক্তভোগী জানান, প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাকে একটি রিসোর্টে নিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং পরে মোটা অঙ্কের টাকা ও ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব নিতে বাধ্য করা হয়।
তৃতীয় বিয়ে ও বিদেশ পাঠানোর প্রতারণা
তন্দ্রা বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ইতালি বাবুর সঙ্গে তৃতীয় বিয়ে করেন। ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভনে খুলনাসহ বিভিন্ন জেলার মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি। এ নিয়েও একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
দলের ক্ষোভ ও বিতর্ক
তন্দ্রার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন আওয়ামী লীগের অনেক নারী নেত্রী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেত্রী জানান, “অর্থ আর প্রভাবের জোরে সে যেটা পারে, আমরা সেটা পারি না, তাই তাকে গুরুত্ব দেওয়া হতো।”
তন্দ্রার গ্রেফতারের পর তার অপরাধ জগতের আরও অনেক তথ্য বেরিয়ে আসছে। তার বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতারাও।
হাআমা/
