আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: বুরকিনা ফাসোর সামরিক শাসক ও প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম টাওরে বিতর্কিত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং নির্দিষ্ট কিছু ইমামের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, ‘উগ্রবাদী ইমামের’ বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের যুদ্ধ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন ইমামকে গ্রেপ্তার এবং বিতর্কিত নতুন ধর্মীয় আইন পাসের পর দেশটিতে চরম উত্তেজনার মাঝে এই হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট তাওরে মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের উদ্দেশে বলেন, “যদি এটি আপনাদের ইসলাম হয়ে থাকে, তবে আমরা এর বিরুদ্ধে লড়ব। উগ্রবাদীদের অবশ্যই পরিবর্তন হতে হবে, অন্যথায় যুদ্ধ চলবেই।” তিনি অভিযোগ করেন, কিছু বিদেশি শক্তি ধর্মের দোহাই দিয়ে বুরকিনা ফাসোকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তবে যেসব ইমাম শান্তির বার্তা প্রচার করবেন, সরকার তাঁদের পাশে থাকবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সম্প্রতি বুরকিনা ফাসোর পার্লামেন্টে একটি নতুন ধর্মীয় আইন পাস করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং ধর্মের অপব্যবহারের জন্য জেল-জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। সরকারের দাবি, দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র বজায় রাখতে এই আইন জরুরি। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এর মাধ্যমে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে সামরিক জান্তা।
এরই মধ্যে মোহাম্মদ ইশহাক কিন্দো ও মাহমুদ বারো নামের দুই প্রভাবশালী সুন্নি ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। ইশহাক কিন্দোর মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করায় তাঁর প্রায় ১০০ সমর্থককে আটক করে সেনা ক্যাম্পে ‘নাগরিক প্রশিক্ষণ’ দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। নিরাপত্তার অজুহাতে রাজধানীর প্রধান সুন্নি মসজিদটিও বন্ধ করে দিয়েছে তাওরে প্রশাসন। সামরিক সরকার ও মুসলিম সম্প্রদায়ের এই মুখোমুখি অবস্থান দেশটিকে নতুন সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: দ্য নিউ আরব
