দীর্ঘ সাড়ে চার মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত মার্চ মাসে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকা ছেড়েছিলেন বিএনপির এই হেভিওয়েট রাজনীতিবিদ।
চিকিৎসার শুরুটা সিঙ্গাপুরে হলেও পরবর্তীতে ধারাবাহিক চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাকে স্থানান্তর করা হয় মালয়েশিয়ায়। তবে দলের নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মনে এখন একটাই কৌতূহলী প্রশ্ন—কবে দেশে ফিরবেন সাবেক এই মন্ত্রী?
এ বিষয়ে মির্জা আব্বাসের ঘনিষ্ঠ কিছু সূত্র জানায়, বর্তমানে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের অভিজাত ‘প্রিন্স কোর্ট মেডিক্যাল সেন্টার’-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন মির্জা আব্বাস। তবে হাসপাতালের বন্দিদশা কাটাতে কুয়ালালামপুর থেকে কয়েক শ কিলোমিটার দূরের শান্ত শহর ইপুহ এলাকায় বেশিরভাগ সময় কাটাচ্ছেন তিনি।
সূত্র জানায়, সেখানে নিবিড় তত্ত্বাবধানে চলছে তার ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা।
ঘনিষ্ঠ সূত্রটি আরও জানায়, শারীরিক পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতির কারণে খুব দ্রুতই সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দেশের মাটিতে পা রাখার কথা রয়েছে বিএনপির এই প্রবীণ নেতার।
গত ২১ জুলাই বিকেলে প্রিন্স কোর্ট মেডিক্যাল সেন্টারের লবিতে এক অন্যরকম দৃশ্য দেখা যায়। বাংলাদেশ ও স্থানীয় প্রবাসীরা যখন তার সুস্বাস্থ্য কামনায় লবিতে অপেক্ষা করছিলেন, ঠিক তখনই হুইলচেয়ারে করে লবিতে এসে উপস্থিত হন মির্জা আব্বাস।
পাশে ছিলেন সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাস। দীর্ঘদিন পর প্রিয় নেতাকে সামনাসামনি দেখে খোঁজখবর নেন নেতাকর্মীরা। এ সময় হাসিমুখে সবার সঙ্গে কথা বলেন মির্জা আব্বাস।
নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তিনি জানান, আগের তুলনায় অনেকটাই সুস্থ বোধ করছেন এবং ক্রমান্বয়ে উন্নতির পথে রয়েছেন।
মির্জা আব্বাসের এমন ঘুরে দাঁড়ানোকে অলৌকিক বলছেন তার পরিবার। তার সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস বলেন, উনি যে শারীরিক সংকট পার করে এসেছেন, সেই অবস্থা থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে আসাটা আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো মনে হয়েছে।
আলহামদুলিল্লাহ, তিনি এখন সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত। চিকিৎসকদের পরামর্শে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই আমরা দেশে ফিরতে পারব।
উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকা ছেড়েছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস।
