বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক রচিত নতুন গ্রন্থ ‘জুলাই কেন আমাদের লড়াই?’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল তিনটায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় কার্যালয় দারুল খিলাফাহ মিলনায়তনে এক বর্ণাঢ্য ও জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রাজনৈতিক অবস্থান, গণভোট, সংবিধান সংস্কার, ইসলামপন্থীদের ঐতিহাসিক ভূমিকা এবং সমকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক এই গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট লেখক ও ইতিহাসবিদ মাওলানা মনজুর আহমাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া এবং বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক মুসা আল হাফিজ।
বইটির লেখক ও দলের আমীর আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা কেন জুলাইয়ের পক্ষে ছিলাম, আছি এবং থাকতে হবে, মূলত সেটিই এই বইটিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। জুলাইয়ের পক্ষে আমাদের অবস্থান সম্পূর্ণ আপসহীন, এখানে নমনীয়তার কোনো সুযোগ নেই।’ তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবে কওমি আলেম সমাজের অবদান ও আকাঙ্ক্ষাকে আমাদেরই কিছু মানুষের দুর্বল করার যে অপচেষ্টা চলছে, তার প্রতি তিনি চূড়ান্ত ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিগত নির্বাচনে বিএনপির সাথে জোট না হওয়ার পেছনে সবচেয়ে শক্তিশালী কারণ ছিল জুলাইয়ের বিরুদ্ধে তাদের তৎকালীন অবস্থান উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা কোনোভাবেই জুলাইয়ের পূর্ণ প্রতিষ্ঠা চাচ্ছিল না।
অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন, বর্তমানে জুলাইয়ের ইতিহাসকে বিকৃত ও পরিবর্তন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। জুলাই জাদুঘরকে যেভাবে বিকৃত করে উদ্বোধন করা হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে প্রতিটি মানুষের নিজ নিজ জায়গা থেকে জুলাইয়ের অভিজ্ঞতা ও ইতিহাস লিপিবদ্ধ করে রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশিষ্ট গবেষক মুসা আল হাফিজ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা ভূমিকা রেখেছেন, তাদের লিখিত বইগুলোর মধ্যে এই গ্রন্থটি প্রথম সারিতে অবস্থান করবে। জুলাইয়ের যতগুলো পক্ষ রয়েছে, তাদের সবারই এই বইটিকে জুলাইয়ের একটি প্রামাণ্য টেক্সটবুক হিসেবে গ্রহণ করা উচিত বলে মত দেন তিনি।
মাওলানা আল আবিদ শাকেরের চমৎকার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা কুরবান আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হুসাইন মিয়াজি, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমাদ, মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, মাওলানা এনামুল হক মুসা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা সানাউল্লাহ আমিনী, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুর্শিদ সিদ্দিকী, সহ-সভাপতি মাওলানা এহসানুল হক, জামিয়াতুত তারবিয়াহ আল ইসলামিয়ার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা ইব্রাহিম জামিলসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বরেণ্য উলামায়ে কেরাম।
টিএইচএ/
