পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই বাঁচেনি ৭ সদস্যের পরিবারের

by hsnalmahmud@gmail.com

এক রাত আগেও মাথার ওপর ছিল নিজের ঘর, ঘরে ছিল সংসারের টুকিটাকি জিনিসপত্র, রান্নাঘরে ছিল খাবারের ব্যবস্থা। এখন সেসবের কিছুই নেই। ভয়াবহ আগুনে পুড়ে গেছে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, খাবারসহ সংসারের সবকিছু। আগুনের হাত থেকে প্রাণে বাঁচলেও সর্বস্ব হারিয়ে পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই সাত সদস্যের পরিবারটির। এখন কোথায় ঘুমাবেন, কী খাবেন- এই অনিশ্চয়তায় দিশেহারা তারা।

ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জ সদরের নিজড়া ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামে। শনিবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে জয়তুন বেগমের বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বসতঘর, রান্নাঘর ও পাশের কাছারি ঘরে। স্থানীয়দের ধারণা, আগুনে পরিবারটির অন্তত ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

জয়তুন বেগমের চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়েছে তার সংসার। তিনি জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে বসতঘরের পাশে কাছারি ঘরে আগুন দেখতে পান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের ভয়াবহতা বাড়তে থাকায় ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। গোপালগঞ্জ শহর থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তিনটি ঘর আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

জয়তুন বেগম বলেন, ‘এখন আমরা দিশেহারা। আমাদের খাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। রাতে মাথা গোঁজারও কোনো জায়গা নেই। আমার পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই নেই।’

কিছুক্ষণ নীরব থেকে তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম আমার ছেলে মামুন মোল্লা। এই ঘটনায় সেও অনেক ভেঙে পড়েছে। আমাদের পক্ষে নিজেদের টাকায় আবার ঘরবাড়ি তৈরি করা সম্ভব নয়। সরকারি সাহায্য ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমি সরকারের কাছে সাহায্য চাই।’

রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পুড়ে যাওয়া ঘরগুলোর জায়গায় পড়ে আছে ছাই, পোড়া টিন, কাঠ ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কিছু জিনিসপত্র। যে উঠানে একদিন আগে ছিল পরিবারের স্বাভাবিক জীবন, সেখানে এখন শুধু পোড়া গন্ধ আর ধ্বংসস্তূপ। স্বজন-প্রতিবেশীরা এসে তাদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন। কেউ কিছুক্ষণ পাশে দাঁড়াচ্ছেন, কেউ সহানুভূতির কথা বলে ফিরে যাচ্ছেন। কিন্তু তাদের চলে যাওয়ার পর আবারও নেমে আসছে নিঃসঙ্গতা।

পরিবারটির সদস্যদের চোখেমুখে এখন শুধু আতঙ্ক আর হতাশা। ঘর হারানোর কষ্টের সঙ্গে যোগ হয়েছে খাবারের চিন্তা। শিশু ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে কোথায় রাত কাটাবেন, সেই প্রশ্নেরও কোনো উত্তর নেই তাদের কাছে।

আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী পরিবার, এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে কোনো ধারণা দিতে পারেননি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পরিবারটি আর্থিকভাবে অসচ্ছল। আগুনে তাদের সবকিছু পুড়ে যাওয়ায় তারা এখন চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছেন। এই মুহূর্তে তাদের খাবার, পোশাক ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা জরুরি। একই সঙ্গে ঘর পুনর্নির্মাণে সরকারি সহায়তার প্রয়োজন।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদ বলেন, ‘আগুনে ঘরবাড়ি পুড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনাটি জেনেছি। আমি খুবই মর্মাহত। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক স্যারের কাছে আবেদন পাঠানোর ব্যবস্থা নেব। আশা করছি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি খুব অল্প সময়ের মধ্যে সরকারি সহায়তা পাবে।’

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222