আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি সঠিক ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানানোর পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসায় ভাসছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। কোরআন ও সুন্নাহর সঠিক শিক্ষা প্রচার, সমাজে প্রচলিত অনাকাঙ্ক্ষিত প্রথা পরিহার এবং নৈতিকতাসম্পন্ন আদর্শ জাতি গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে দেওয়া তার এই বক্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়েছেন নেটিজেনদের একটি বড় অংশ। তবে এই বক্তব্যের ভিন্নমুখী প্রতিক্রিয়াও লক্ষ্য করা গেছে।
গত সোমবার রাজধানীর জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট (এআইআইআই)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান এই সুনির্দিষ্ট মতামত তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সমাজে ধর্মীয় অনুশীলনের ক্ষেত্রে নানাবিধ অনাকাঙ্ক্ষিত সংযোজন বা বিদআত ঢুকে পড়েছে, যেখান থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। একটি সুস্থ ইসলামিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে আধুনিক জ্ঞানবিজ্ঞান এবং ইসলামী মূল্যবোধের সুষম সমন্বয় ঘটানোর ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।
অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান বলেন, সমাজে ধর্মীয় চর্চার বিভিন্ন স্তরে বিদআত ছড়িয়ে পড়েছে এবং এসব কাটিয়ে উঠতে হবে। আধুনিক ও ইসলামী শিক্ষার সমন্বয় সাধিত না হলে ভবিষ্যতে দক্ষ, নৈতিক ও মানবিক জাতি গঠন করা সম্ভব নয়। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একদিকে আধুনিক শিক্ষায় ইসলামী মূল্যবোধের ঘাটতি রয়েছে, অন্যদিকে প্রথাগত ইসলামী শিক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতার কিছুটা অভাব পরিলক্ষিত হয়। এই ব্যবধান দূর করতে পারলে আগামী তিন দশকের মধ্যে একটি আদর্শ জাতি উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নবপ্রতিষ্ঠিত আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের মূল লক্ষ্য সম্পর্কে সেনাপ্রধান জানান, এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি প্রকৃত ইসলামী নৈতিক মূল্যবোধ অর্জন করতে সক্ষম হবে। তার এই বক্তব্যের পর ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ। সুলতান মাহমুদ রুপশ নামের এক ব্যবহারকারী সেনাপ্রধানের বক্তব্যে মুগ্ধতা প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানান। জাকিরুল আলম মিলন নামের আরেক ব্যবহারকারী দেশের জন্য এমন দ্বীনদার নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। এছাড়া ইসমাইল টোলিন নামের অপর এক নেটিজেন দায়িত্বশীল নেতার মুখে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতার কথা শোনার অনুভূতিকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেছেন।
টিএইচএ/
