বিশেষ প্রতিবেদক:: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। রবিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অবস্থিত আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরী মাদ্রাসায় দুই নেতার মধ্যে এই সাক্ষাৎ ও সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন অঙ্গনে প্রধানমন্ত্রী ও হেফাজত আমিরের এই সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময়ের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তা নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছে। দেশের বিভিন্ন স্তরের উলামায়ে কেরাম, লেখক ও চিন্তাবিদেরা সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে আলেম সমাজের এই সৌজন্য সাক্ষাৎকে অত্যন্ত ইতিবাচক ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন।
এর আগে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম অঞ্চলের অন্য কর্মসূচি শেষে হেলিকপ্টারযোগে ফটিকছড়ি পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। হেলিকপ্টারটি পেলাগাজী দিঘির মাঠে অবতরণ করলে স্থানীয় সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পরবর্তীতে সড়কপথে বাবুনগর মাদ্রাসার উদ্দেশে রওনা হলে পথের দুই পাশে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা তাঁকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানায়। প্রধানমন্ত্রীও গাড়ি থেকে নেমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
মাদ্রাসায় পৌঁছালে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকমণ্ডলী ও কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং সার্বিক স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি। সফরসূচি অনুযায়ী, বাবুনগর মাদ্রাসার কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী হাটহাজারী উপজেলায় অবস্থিত দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার উদ্দেশে রওনা হন।
প্রধানমন্ত্রী ও হেফাজত আমিরের সাক্ষাৎ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট আলেমের মন্তব্য নজর কেড়েছে:
মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ্ আইয়ুবী: তিনি মন্তব্য করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সফর যেন নিছক সৌজন্য সাক্ষাতেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং এটি যেন ইসলাম ও মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষায় উলামায়ে কেরামের পরামর্শ গ্রহণের একটি সুন্দর উদাহরণ হয়ে ওঠে। ইতিহাস স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, যেসব শাসক আলেমদের দিকনির্দেশনাকে প্রাধান্য দিয়েছেন, তাঁরাই যুগে যুগে সফল হয়েছেন।
শরীফ মুহাম্মদ (লেখক ও গবেষক): তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে স্থানীয় বড় দ্বীনি ব্যক্তিত্ব ও আলেমদের সঙ্গে দেখা করতেন এবং তাঁদের কাছ থেকে পরামর্শ ও দোয়া চাইতেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিতা অনুসৃত সেই ঐতিহ্য বজায় রাখলে তা দেশের জন্য কল্যাণের কারণ হবে।
মুফতি ফয়জুল্লাহ আমান কাসেমী (প্রবাসী ইসলামি চিন্তাবিদ): তিনি প্রধানমন্ত্রী ও হেফাজত আমিরের আন্তরিক কোলাকুলির দৃশ্যকে অত্যন্ত নয়নজুড়ানো উল্লেখ করে বলেন, আলেম সমাজের প্রতি সম্মান দেখানোই আমাদের ঐতিহ্য।
মাওলানা সালাহুদ্দীন মাসউদ: তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু যখন নসিহত ও দিকনির্দেশনা লাভের আশায় আলেমের দরজায় আসে, তখন তা দেশের জন্য আশাব্যঞ্জক বার্তা বহন করে। এটি ক্ষমতার নমনীয়তা এবং সত্যের সামনে মাথা নোয়ানোর মানসিকতা প্রকাশ করে।
আদনান মাসউদ (মাদ্রাসা শিক্ষক): তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বাবুনগর মাদ্রাসার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কোনো ব্যক্তিগত বা বৈষয়িক দাবি পেশ করা হয়নি, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। একইসঙ্গে বিএনপি সরকারের আমলে কওমি সনদের স্বীকৃতির পূর্ণ বাস্তবায়নে উলামায়ে কেরামের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
