রাজশাহীর চারঘাটে কারিমন বেওয়া (৩৫) নামে এক বিধবা নারীর গর্ভে জন্ম নিয়েছে ফুটফুটে এক পুত্র সন্তান।
রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ওই বিধবা নারী সন্তান প্রসব করেন। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার সন্তানকে দেখতে ভিড় জমায় আশেপাশের শত শত মানুষ।
এক পর্যায়ে সদ্যজাত সন্তানের পিতৃ পরিচয় প্রকাশ করেন বিধবা কারিমন বেওয়া। তিনি জানান, এই সন্তানের পিতা প্রতিবেশী সাবেক ইউপি সদস্য শুকচান্দ আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম।
এ কথা শুনেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী। বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের কালুহাটি পশ্চিম পাড়া এলাকা।
সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় থানা পুলিশ ও সংবাদকর্মীরা। তার আগেই আত্মগোপনে চলে যান অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম।
জানা যায়, ৯ বছর পূর্বে দুই ছেলে সন্তান ও এক মেয়ে সন্তান রেখে মারা যান কালুহাটি পশ্চিমপাড়া গ্রামের আকছেদ আলী। এরপর সন্তানদের নিয়ে বেকায়দায় পড়েন বিধবা নারী কারিমন বেওয়া । খেয়ে না খেয়ে চলতে থাকে কারিমন বেওয়ার জীবনযুদ্ধ। এরই মাঝে ঢাল হয়ে পাশে দাঁড়ান প্রতিবেশী সাবেক ইউপি সদস্য শুকচান্দ আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম। এক পর্যায়ে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন দুজনে। বিয়ের আশ্বাসে একাধিকবার অবৈধ শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। সম্পর্কের জেরে গর্ভবতী হয়ে পড়েন ওই বিধবা। গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় চেষ্টা করে ব্যর্থ হন সাইফুল ইসলাম।
রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতেই এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন কারিমন বেগম। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বর্তমানে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ওই নারী নিজ বাড়িতেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কারিমন বলেন, ২০১৬ সালে আমার স্বামী আকছেদ মারা যান। দুই ছেলে ও এক কন্যা নিয়ে খেয়ে না খেয়ে চলছিলাম। সাইফুল ইসলাম বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার সাথে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে আমি গর্ভবতী হই। সে আমার গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে বলে। আজকে আমার একটি পুত্র সন্তান হয়েছে। বিয়ে করার কথা বলে সাইফুল আমার সাথে যে অন্যায় করেছে, আমি তার বিচার চাই। এই নবজাতক সন্তানের পিতৃ পরিচয় চাই।
কারিমনের ভাসুরের ছেলে মাসুদ রানা (৫০) বলেন, চাচা মারা যাওয়ার পর প্রায় প্রতিদিন রাতে চাচির বাড়ির আশে পাশে ঘুরাফিরা করতে দেখা যেত অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামকে। সাইফুল যে অন্যায়টা করেছে, আমরা তার বিচার চাই ও নবজাতক সন্তানের পিতৃ পরিচয় চাই।
চারঘাট মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি রাতেই জানতে পেরেছি। তবে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এআইএল/
