পাকিস্তানকে হারিয়ে নবমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন ভারত

by Fatih Work

অবিশ্বাস্য ব্যাটিং ধ্বসের পর বোলারদের নৈপুণ্যে জয়ের আশা জাগাল পাকিস্তান। কিন্তু তিলক ভার্মার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে মিলিয়ে গেল তাদের সব সম্ভাবনা। আরেকটি চমৎকার জয়ে এশিয়া কাপের অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববারের ম্যাচে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারায় ভারত। ১৪৭ রানের লক্ষ্য ছুঁতে ১৯.৪ খেলে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন দল। এশিয়া কাপে ভারতের এটি নবম শিরোপা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছয় শিরোপা শ্রীলঙ্কার। আর বাকি দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাকিস্তান।

টুর্নামেন্টে তিন ম্যাচেই পাকিস্তানকে হারাল ভারত। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে মুখোমুখি লড়াইয়ে ১৬ ম্যাচে ভারতের এটি ১৩তম জয়। ভারতকে শিরোপা জেতানো ম্যাচে ব্যাট হাতে বড় অবদান রাখেন তিলক। চাপের মুখে চমৎকার ব্যাটিংয়ে ৫৩ বলে ৬৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তরুণ বাঁহাতি ব্যাটার। রান তাড়ায় ভারতের শুরুটা হয় যাচ্ছেতাই। দ্বিতীয় ওভারে ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন আগের ছয় ম্যাচেই ৩০+ রান করা অভিষেক শর্মা। সব মিলিয়ে আসরের সর্বোচ্চ ৩১৪ রানে শেষ হয় বাঁহাতি ওপেনারের এশিয়া কাপ।

বিজ্ঞাপন
banner

পরের দুই ওভারে বাজেভাবে আউট হয়ে যান সূর্যকুমার যাদব (৫ বলে ১) ও শুবমান গিল (১০ বলে ১২)। পুরো আসরেই রানের দেখা পাননি ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার। মূলত বছরজুড়েই একদম বাজে খেলছেন তিনি। মাত্র ২০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় ভারত। এরপর বিপদের মুখে চতুর্থ উইকেটে জুটি বেঁধে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেন তিলক ভার্মা ও সাঞ্জু স্যামসন। দুজন মিলে গড়েন ৫০ বলে ৫৭ রানের জুটি। ১৩তম ওভারে আবরার আহমেদের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে পয়েন্টে ধরা পড়েন স্যামসন। তার ব্যাট থেকে আসে ২ চার ও ১ ছক্কায় ২১ বলে ২৪ রান। ফলে আবারও চাপে পড়ে যায় ভারত।

শেষ ৬ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ৬৩ রান। সেখান থেকে হারিস রউফের করা ১৫তম ওভারে দুই চারের পর ছক্কা মেরে ১৭ রান নিয়ে নেয় ভারত। পরে রউফের করা ১৮তম ওভারে ১৩ রান নিয়ে সমীকরণ ১২ বলে ১৭ রানে নামিয়ে আনেন তিলক ও দুবে। ৩২ ম্যাচের ক্যারিয়ারে চতুর্থ ফিফটি ছুঁতে ৪১ বল খেলেন তিলক। চাপের মুখে দুবেকে নিয়ে মাত্র ৩৪ বলে পূর্ণ করেন জুটির পঞ্চাশ রান। ১৯তম ওভারে ফাহিম আশরাফের বলে বাউন্ডারি মারেন দুবে। তবে শেষ বলে ক্যাচ আউট হয়ে যান তিনি। তাই শেষ ওভারে বাকি থাকে ১০ রান। পাকিস্তানের পক্ষে দায়িত্ব পড়ে রউফের কাঁধে। তবে দ্বিতীয় বলেই ছক্কা মেরে দেন তিলক। আর চতুর্থ বলে বাউন্ডারি মেরে ম্যাচ শেষ করেন রিঙ্কু সিং।

এর আগে সাহিবজাদা ফারহান ও ফাখার জামানের ব্যাটে উড়ন্ত শুরু পাওয়ার পর মনে হচ্ছিল, দুইশ রান করে ফেলবে পাকিস্তান। কিন্তু অবিশ্বাস্য ব্যাটিং ধ্বসে দেড়শও করতে পারেনি তারা। ভারতের স্পিনারদের চমৎকার বোলিংয়ে মাত্র ৩৩ রানে শেষের ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান। অথচ এক পর্যায়ে ১১৩ রানে ১ উইকেট ছিল পাকিস্তানের। সেখান থেকে শুরু হয় তাদের পেছন পানে দৌড়। যা শেষ হয় ২০তম ওভারের প্রথম বলে।

উইকেটের মন্থরতা ধরতে পেরে এই ম্যাচে স্পিনার বাড়িয়ে খেলতে নামে ভারত। স্পিনাররাই করে দেন আসল কাজ। ৪ ওভারে ৩০ রানে ৪ উইকেট দেন কুলদিপ যাদব। এই আসরে তার শিকার সর্বোচ্চ ১৭ উইকেট। এছাড়া বরুণ চক্রবর্তী ও অক্ষর প্যাটেলও নেন ২টি করে উইকেট। একমাত্র বিশেষজ্ঞ পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ নেন শেষ ২ উইকেট। পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৮ রান করেন ফারহান। ফাখারের ব্যাট থেকে আসে ৪৬ রান। দুজনের উদ্বোধনী জুটির সংগ্রহ ছিল ৮৪ রান। এরপর তিন নম্বরে নেমে সাইম আইয়ুব করেন ১৫ রান। আর কেউ দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেনি। তবে দুর্দান্ত বোলিং প্রদর্শনীতে ১৪৬ রানই জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান: ১৯.১ ওভারে ১৪৬ (ফারহান ৫৭, ফাখার ৪৬, সাইম ১৪, হারিস ০, সালমান ৮, তালাত ১, নাওয়াজ ৬, আফ্রিদি ০, ফাহিম ০, রউফ ৬, আবরার ১*; দুবে ৩-০-২৩-০, বুমরাহ ৩.১-০-২৫-২, বরুণ ৪-০-৩০-২, অক্ষর ৪-০-২৬-২, কুলদিপ ৪-০-৩০-৪, তিলক ১-০-৯-০)

ভারত: ১৯.৪ ওভারে ১৫০/৫ (অভিষেক ৫, গিল ১২, সূর্যকুমার ১, তিলক ৬৯*, স্যামসন ২৪, দুবে ৩৩, রিঙ্কু ৪*; আফ্রিদি ৪-০-২০-১, ফাহিম ৪-০-২৯-৩, নাওয়াজ ১-০-৬-০, রউফ ৩.৪-০-৫০-০, আবরার ৪-০-২৯-১, সাইম ৩-০-১৬-০)

ফল: ভারত ৫ উইকেটে জয়ী

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222