ডেস্ক রিপোর্ট:
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ছোটলিখা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ছুরি দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক মো. উছমান আলী (৫৮) থানায় মামলা করেছেন। অভিযুক্ত কিশোর জামকান্দি (কুলাউড়া) গ্রামের বাসিন্দা।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গ্রামতলা ছোটলিখা উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা চলছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নবম শ্রেণির কৃষি শিক্ষার ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হয়। এ সময় রাশেদ আহমদ সজিব নামের এক শিক্ষার্থী মোবাইল ফোন নিয়ে পরীক্ষার হলে ঢোকার চেষ্টা করে। তখন প্রধান শিক্ষক উছমান আলী ফোনটি জব্দ করে সহকারী প্রধান শিক্ষক অজয় চন্দ্র দাসের কাছে জমা রাখেন। সকাল প্রায় ১০টা ৩০ মিনিটে রাশেদের ‘বন্ধু’ পরিচয় দিয়ে এক কিশোর প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষের সামনে এসে মোবাইলটি ফেরত দেওয়ার জন্য বলে। প্রধান শিক্ষক ফোনটি ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই কিশোর উত্তেজিত হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তার কোমরে লুকানো একটি বড় ছুরি বের করে প্রধান শিক্ষকের বুকে আঘাত করার চেষ্টা করে। শিক্ষক দ্রুত সরে দাঁড়ানোয় আঘাতটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এ সময় তার চিৎকার শুনে শিক্ষক সুমন আহমদ এগিয়ে গেলে ওই কিশোর ছুরি দিয়ে তাকেও আঘাত করার চেষ্টা করে। পরে উপস্থিত শিক্ষক ও কর্মচারীরা ধাওয়া করে তাকে আটক করেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাওলাদার আজিজুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করে।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, “ছোটলিখা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. উছমান আলীকে ছুরি দিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরকে আটক ও ছুরি জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় প্রধান শিক্ষক উছমান আলী থানায় মামলা করেছে। অভিযুক্তকে বৃহস্পতিবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এমএআর/
