হাসান আল মাহমুদ >>
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনভিত্তিক একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে দেশব্যাপী আলোচিত আট দলের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট নেতাদের আশা, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।
জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)—এই আট দল যুগপৎ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রত্যেক আসনে আট দলের পক্ষ থেকে একজন করে একক প্রার্থী দেওয়ার নীতিতে তারা একমত হয়েছে।
গত ৮ ডিসেম্বর আট দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের জানান, ভোটকেন্দ্রিক আলোচনা শুরু হয়েছে এবং ৯ জানুয়ারি থেকে প্রার্থী বাছাইয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি ৩০০ আসনে ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারব। এখানে কোনো জোটের নাম থাকবে না; দেশপ্রেমিক ও ঐক্যের প্রার্থী থাকবে।”
লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘এটি মূলত একটি আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম হলেও নির্বাচনে ‘এক বাক্স’ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ, এক আসনে একজনের বেশি প্রার্থী থাকবে না। শুধু প্রার্থী দেওয়া নয়, সমঝোতার প্রার্থীদের বিজয়ী করাই আমাদের লক্ষ্য।’
সূত্র মতে, ৯ ডিসেম্বর থেকেই আট দলের মধ্যে পারস্পরিক আলোচনা শুরু হয়েছে। দলগুলো আগেই নিজেদের সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা প্রস্তুত করে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে। এসব তালিকা নিয়ে ধারাবাহিক বৈঠক ও খণ্ড খণ্ড আলোচনা চলছে। যদিও এখনো চূড়ান্তভাবে কোন দল কতটি আসনে নির্বাচন করবে—সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে আসন সমঝোতার কাজ অনেক দূর এগিয়েছে।
কবে আসছে আসন সমঝোতার ঘোষণা?
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস আহমদ ৩৬ নিউজকে বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী ১৯ ডিসেম্বর একটি চূড়ান্ত বৈঠক হবে। এরপর ২০ বা ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে ঘোষণা আসতে পারে ইনশাআল্লাহ।’
এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, আসন সমঝোতা নিয়ে কোনো ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়নি। পুরো প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে অগ্রসর হচ্ছে।
এর আগে দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘দ্রুততার সঙ্গে কাজ চলছে। প্রায় প্রতিদিনই বৈঠক হচ্ছে। যেখানে বিজয়ের সম্ভাবনা বেশি, সেসব আসনে সংশ্লিষ্ট দল ও সিনিয়র নেতাদের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, জরিপের ভিত্তিতে তাদের দলের প্রার্থীদের তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে আলোচনা করা হচ্ছে।
লিয়াজোঁ কমিটির এক নেতা বলেন, শতভাগ প্রত্যাশা পূরণ না হলেও এমন সমঝোতা করতে হবে, যাতে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে একক প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে দলগুলোর লিখিত সম্মতির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পর আচরণবিধি মেনে প্রকাশ্য প্রচার কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন আট দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে দলীয় ও প্রার্থীদের প্রস্তুতিমূলক ঘরোয়া কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ঢাকা-৬ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘প্রচার বন্ধ থাকলেও আমাদের সাংগঠনিক প্রস্তুতি চলছে।’
সূত্র জানায়, নির্বাচনি আচরণবিধি মানতে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক জায়গায় ব্যানার ও ফেস্টুন সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আট দলের অন্যান্য শরিকরাও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।
সব মিলিয়ে, আসন সমঝোতা চূড়ান্তের অপেক্ষায় এখন রাজনৈতিক অঙ্গন। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নির্ধারিত বৈঠকের পরই আসবে বহুল আলোচিত ঘোষণাটি।
হাআমা/
