রংপুরে রেকটিফায়েড স্পিরিট পান করে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭

by Fatih Work

রংপুরে হোমিওপ্যাথিক ওষুধালয় থেকে সংগৃহীত রেকটিফায়েড স্পিরিট এলকোহল পান করে আরও দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত তিনদিনে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অভিজিত চৌধুরী মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “জয়নুল আবেদিনের বিরুদ্ধে মাদক ও হত্যা মামলা ছিল। মঙ্গলবার বিকেলে বুকে ব্যথা অনুভব হলে তাকে কারাগার থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে হৃদরোগ বিভাগে চিকিৎসাধীন থেকে বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে তিনি মারা যান।”

বিজ্ঞাপন
banner

এদিকে, রেকটিফাইড স্পিরিট পান করে মৃত্যুর সংখ্যা সাতজনে দাঁড়িয়েছে।
নতুন করে নিহতরা হলেন, বদরগঞ্জ উপজেলা গোপালপুর ইউনিয়নের পূর্ব শিবপুর গ্রামের মহির উদ্দিনের পুত্র আব্দুল মালেক ও রংপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর বন্দর কলেজ পাড়ার মৃত মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রাশেদুল ইসলাম।

মঙ্গলবার মধ্যরাতে তাদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে রংপুর কারাগারে বন্দী মাদক কারবারি কিশামত বসন্তপুর নয়া পাড়া গ্রামের আনারুল ইসলামের পুত্র মাদক কারবারি জয়নুল আবেদিন (৪৬) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

রবিবার দিবাগত মধ্যরাতে বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরহাট কিশামত বসন্তপুর নয়া পাড়া গ্রামের চিহ্নিত মাদক কারবারি জয়নুল আবেদীনের বাড়িতে রেকটিফায়েড স্পিরিট এলকোহল পান করেন। এতে বেশ কয়েকজন অসুস্থ্য হন। ঘটনাস্থলে মারা যান বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের পুত্র আলমগীর হোসেন, পূর্ব শিবপুর গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের পুত্র সোহেল মিয়া এবং সদর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের জেন্নাদ আলি (৩৫)। আরও বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে গোপনে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

রংপুর মহানগর পুলিশের হাজিরহাট থানার ওসি আজাদ রহমান জানান, “সোমবার সন্ধ্যায় নগরীর হাজিরহাট থানার বালারবাজারে এলকোহল খেয়ে অসুস্থ হন সদর কোতয়ালী থানার শিবের বাজার পশ্চিম হিন্দুপাড়ার মৃত অনিল চন্দ্র রায়ের পুত্র মানিক চন্দ্র রায় (৬০)। মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।” ওসি আরও জানান, “আরও বেশ কয়েকজন গোপনে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ঘটনায় বদরগঞ্জ ও হাজিরহাট থানায় দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ১০ বোতল রেকটিফাইড স্পিরিটের বোতল।”

রংপুর পুলিশ সুপার মারুফাত হোসাইন জানান, “স্থানীয় এক শ্রেণির হোমিওপ্যাথিক চেম্বার থেকে ওষুধগুলো সংগ্রহ করে থাকেন মাদক কারবারিরা। নগরীর একটি হোমিও চেম্বারে অভিযানও চালিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। আমরা বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি। এ নিয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

এ ঘটনায় ১০ বোতল স্পিরিটসহ বিক্রেতা জয়নুল আবেদিনকে আটক করে পুলিশ। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

এমএআর/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222