উত্তরবঙ্গের অবহেলিত জনপদকে কৃষি ও শিল্পের প্রাণকেন্দ্রে রূপান্তরের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন দশ দলীয় জোটের প্রধান ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে পঞ্চগড় জেলা চিনিকল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের উত্তর অঞ্চলকে পরিকল্পিতভাবে দারিদ্র্যপীড়িত করে রাখা হয়েছে। এখন সময় এসেছে সেই বঞ্চনার ইতিহাস মুছে ফেলার।
জনসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের কাছে কোনো বিশেষ কার্ড বা জাদুর কাঠি নেই, এ দেশের সাধারণ মানুষই আমাদের শক্তির আসল উৎস। আমরা আপনাদের হৃদয়ে স্থান পেতে চাই। বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলগুলো পুনরায় সচল করে এই অঞ্চলে কর্মসংস্থানের বিপ্লব ঘটানো হবে। বেকারত্বের অভিশাপ মুক্ত করে প্রতিটি ঘরে কাজের সুযোগ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য। নদী শুকিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার অভিভাবক কি এ দেশে কেউ ছিল না? কেন চোখের সামনে নদীগুলো মরে গেল?
তিনি বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, যারা কেবল নির্বাচনের সময় ‘কোকিল’-এর মতো ডাকে, তারা জনগণের প্রকৃত বন্ধু হতে পারে না। আমরা শত জুলুম ও নির্যাতনের মুখেও দেশ ছেড়ে কোথাও পালাইনি, বরং জনগণের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে পাশেই ছিলাম। তিনি ঘোষণা দেন, দশ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে দেশের ৬৪টি জেলায় ৬৪টি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। অর্থায়নের উৎস সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশ থেকে যে ২৮ হাজার কোটি টাকা অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা হয়েছে, তা পাচারকারীদের গলা থেকে বের করে আনা হবে এবং সেই টাকা দিয়েই জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জামায়াত আমির বলেন, নতুন কোনো দুর্বৃত্ত যেন ভিন্ন পোশাকে এসে দেশকে আবারো অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে বিষয়ে সকলকে সজাগ থাকতে হবে। দুর্নীতি, দখলদারিত্ব ও অর্থ পাচার বন্ধ করা গেলে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে সত্যের বিজয় সুনিশ্চিত করতে তিনি দেশবাসীর দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন। উত্তরের এই জনপদ থেকে নতুন করে দেশ গড়ার শপথ নিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।
টিএইচএ/
