নির্বাচনের আগে রায়পুরায় খুন: আসামিদের আড়াল করার অভিযোগ

by Fatih Work

বশির আহমদ মোল্লা, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি:

নরসিংদীর রায়পুরা একটি অস্থিতিশীল এলাকা; যেখানে প্রতিনিয়ত চলছে শোকের মাতম। কয়েক দিন পরপরই এখানে তুচ্ছ থেকে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় মানবিক জিঘাংসা চালানো হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
banner

প্রতিনিয়ত মানুষ মারছে ও মরছে; হতাহতের মিছিল দিন দিন বড় হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের নজর এদিকে আছে কি না, তা তারাই ভালোভাবে বলতে পারবেন।

গত ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ রায়পুরা উপজেলা নিলক্ষা ইউনিয়নের দাড়িগাঁও গ্রামে মামুন মিয়া নামের এক তরুণকে শ্বশুরবাড়িতে ঢুকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে এবং পরবর্তীতে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে জানা যায়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার শ্বশুর ইউনুস মিয়া গুলিবিদ্ধ হন।

পরবর্তীতে নিহতের মা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। তবে এতে তুষ্ট নন নিহতের স্ত্রী ইয়াসমিন বেগম। তাই নিহতের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার দশজনের অধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে প্রতিনিধিকে মোবাইল ফোনে নিশ্চিত করেন। যদিও অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি।

মুঠোফোনে ইয়াসমিন আক্তার জানান, গত ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তাদের বাসায় নিহত মামুন মিয়া বেড়াতে এলে প্রতিবেশী কয়েকজন দুর্বৃত্ত ঘরে ঢুকে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং শেষে বুকে গুলি করে হত্যা করে। মামুন মিয়াকে বাঁচাতে গিয়ে ইয়াসমিন আক্তারের বাবা ইউনুস মিয়াও গুলিবিদ্ধ হন। হাসপাতাল থেকে স্বামী মামুন মিয়ার মরদেহ নিয়ে বাড়িতে ফিরলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে আটকে রাখে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরবর্তীতে শ্বশুরবাড়ি থেকে পালিয়ে এসে বাচ্চু মিয়ার ছেলে নাজির উদ্দিন শেখ, নুরু মিয়ার ছেলে আমানত খাঁ, শাহাজাহান মিয়ার ছেলে মিস্টার, সহি মেম্বারের ছেলে শাহাবুদ্দিন, মন্টু মিয়ার ছেলে খলিল মিয়া, সামসু মিয়ার ছেলে শাকিল মিয়া, খুশি মিয়ার ছেলে মুকুল মিয়া, সহি মেম্বারের ছেলে আসাবুদ্দিন, শুক্কুর আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম, কালু মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া, মুকুল মিয়ার ছেলে নুর মোহাম্মদ প্রমুখের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করতে না দেওয়ার জন্য শাশুড়ি ও দেবর তাকে আটকে রাখেন। এছাড়াও তাকে আটকে রেখে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার কাছ থেকে অলংকারাদি ছিনিয়ে নেয়, যার আনুমানিক মূল্য সাড়ে চার লাখ টাকা।

ইয়াসমিন আক্তার তার সন্তান নিয়ে বর্তমানে শ্বশুরবাড়ির ভয়ে ফেরারি জীবন যাপন করছেন। তিনি যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন। মূল ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে এলাকায় পোস্টারিং হয়েছে। তবে জড়িতদের আড়াল করতে একটি পক্ষ গোপনে কাজ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বলা হচ্ছে, তারা পতিত রেজিমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। সামনে নির্বাচনকে ঘিরে তাদের বিশেষ পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে আসাদুজ্জামান শামীমের নাম সামনে আসছে; অভিযোগ রয়েছে, তার ছত্রছায়ায় আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে নির্বিঘ্নে চলাফেরা করছে। তবে তথ্য বলছে, ঘটনার পর থেকেই আসাদুজ্জামান শামীম পলাতক রয়েছেন। আগে জেলা আওয়ামী লীগের নেতা থাকলেও বর্তমানে একটি বড় রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় আত্মগোপনে রয়েছে বলে অভিযোগ। নির্বাচনকে ঘিরে তারা আবার সংঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে।

মামলার বিষয়ে রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, “প্রকাশ্যে মামুন মিয়াকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। অগ্রাধিকার ও দায়িত্বের মধ্যে নিহতের মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন।” ইয়াসমিন আক্তারের করা মামলার বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে দাবি করেন।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222