জাল ভোট দিলে হতে পারে যেসব শাস্তি

by Abid

ভোটাধিকার গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তবে এই অধিকার জালিয়াতির মাধ্যমে অপব্যবহার হলে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা। বাংলাদেশে জাল ভোটকে একটি গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি শুধু অনৈতিক কাজ নয়, বরং আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ।

জাল ভোট বলতে এমন ভোটকে বোঝানো হয়, যা প্রকৃত ভোটার নিজ ইচ্ছায় প্রদান করেননি। যেমন—অন্য কেউ কারও নাম ব্যবহার করে ভোট দেওয়া, ভোটার অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ব্যালট বা ইভিএমে ভোট পড়ে যাওয়া, ভয়ভীতি বা জোরপূর্বক নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করা কিংবা একজন ব্যক্তি একাধিকবার ভোট প্রদান করা। যেখানে ভোটারের স্বাধীন মত প্রকাশ অনুপস্থিত, সেখানেই জাল ভোটের বিষয়টি প্রযোজ্য।

বিজ্ঞাপন
banner

স্বাধীনতার পর থেকে দেশে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে জাল ভোটের অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও আস্থার সংকট তৈরি করেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরেও রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে জাল ভোটের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ নির্বাচনে জাল ভোট প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক মামলা, গ্রেপ্তার এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী নির্বাচনী অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। আইনটির ৭৩ থেকে ৮৭ অনুচ্ছেদে ভোটকেন্দ্রে বেআইনি কার্যকলাপের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের কথা উল্লেখ আছে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে অনধিকার প্রবেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। নির্বাচনের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধের ধরন বিবেচনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারেন।

আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়া বা প্রতিদ্বন্দ্বীকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে সরকারি কর্মচারীর সহায়তা নেওয়া বা প্ররোচিত করা, ভোটার না হওয়া সত্ত্বেও ভোট দেওয়া বা ব্যালট চাওয়া, একই কেন্দ্রে একাধিকবার ভোট দেওয়া, একাধিক কেন্দ্রে ভোট প্রদান, ভোট চলাকালে ব্যালট পেপার সরিয়ে নেওয়া কিংবা এসব কাজে অন্যকে প্ররোচিত করাও জাল ভোটের আওতায় পড়ে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার–সংক্রান্ত গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222