নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বরিশাল জেলা ও বিভাগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬-এর ভোটগ্রহণ চলছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় সারা দেশের সঙ্গে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
সকালের দিকে বেশ কিছু কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার সমাগম বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থকরা।
ভোট শুরুর আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। বহুস্তর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে এবং জলপথসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে রাখা হয়েছে বিশেষ নজরদারি। তবে এত প্রস্তুতির পরও কয়েকটি আসনের প্রার্থীরা সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। এ প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে রাতভর কেন্দ্র পাহারার ঘটনাও ঘটেছে।
এ অবস্থায় মধ্যরাতে কেন্দ্র থেকে বাইরে বের হওয়ার সময় উজিরপুরে দুইজন ও বাবুগঞ্জে চারজন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা বিপাকে পড়েন। উজিরপুরের দুই সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অন্যদিকে বাবুগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের বারকানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের চার সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিজেদের জিম্মায় নেয়।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বরিশাল জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে ভোটের দিন প্রায় ১৬ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। আর গোটা বিভাগজুড়ে এ সংখ্যা অর্ধলাখেরও বেশি। কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা, মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স ও টহল জোরদারের মাধ্যমে সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে প্রশাসন। পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, আনসার, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে মাঠে রয়েছে।
উল্লেখ্য, বরিশাল জেলার ১০টি উপজেলা নিয়ে গঠিত ছয়টি সংসদীয় আসনে ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৮ জন ভোটার ৮৩৩টি কেন্দ্রে ২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। আর বরিশাল বিভাগে মোট ২১টি আসনে ২ হাজার ৮৩৮টি কেন্দ্রে ৭৯ লাখ ৮১ হাজার ১০৪ জন ভোটার ১২৪ জন প্রার্থীর মধ্যে তাদের ভোট প্রদান করবেন।
টিএইচএ/
