আধুনিক প্রযুক্তির দাপটে যখন স্মার্টফোনের ডিজিটাল অ্যালার্মই মানুষের ঘুম ভাঙানোর প্রধান অনুষঙ্গ, তখন তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহর বুকে আগলে রেখেছে শতাব্দী প্রাচীন অটোমান ঐতিহ্য। পবিত্র রমজান মাসকে স্বাগত জানিয়ে তুরস্ক, ওমান, সিঙ্গাপুর এবং অস্ট্রেলিয়ায় আজ বৃহস্পতিবার থেকে সিয়াম সাধনা শুরু হয়েছে। ইস্তাম্বুলের ৯৬১টি মহল্লায় সেহরির সময় রোজাদারদের জাগিয়ে তুলতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন প্রায় ৩,০০০ নিবন্ধিত ঢোলবাদক। ‘ফেডারেশন অফ অল ইস্তাম্বুল নেবারহুড মুখতার অ্যাসোসিয়েশন’-এর সভাপতি সেলামি আয়কুট এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এই প্রথাটি কেবল মানুষকে সেহরির জন্য জাগিয়ে তোলার মাধ্যম নয়, বরং এটি রমজানের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশকে পাড়া-মহল্লায় জীবন্ত রাখার একটি প্রচেষ্টা। মূলত নতুন প্রজন্মের কাছে যৌথ স্মৃতি ও ধর্মীয় সচেতনতা পৌঁছে দিতেই বংশপরম্পরায় এই প্রথা ধরে রাখা হয়েছে। ঢোলের তালের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী তুর্কি ছড়া বা ‘মানি’ পাঠের মাধ্যমে পরিবেশকে উৎসবমুখর করে তোলেন এই বাদকরা।
দীর্ঘ তিন দশক ধরে এই পেশায় নিয়োজিত ঈসা বুলদু জানান, নির্দিষ্ট ড্রেস কোড এবং বিশেষ ছড়া নিয়ে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে তাদের গভীর বিশ্বাস ও ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আরেক বাদক মুসা বুলুর বলেন, শহরের শিশুরাও এই ঢোলের শব্দের অপেক্ষায় থাকে। তবে ঐতিহ্য রক্ষায় ইস্তাম্বুল প্রশাসন বেশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রতিটি অনুমোদিত বাদকের কাছে সরকারি পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং ‘জলদস্যু’ বা অননুমোদিত বাদকদের ঠেকাতে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।
মজার বিষয় হলো, এই সেবার বিপরীতে কোনো নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক নেই; বাসিন্দারা ভালোবেসে যা বকশিশ দেন, তা-ই তারা সানন্দে গ্রহণ করেন। যান্ত্রিক ঘড়ির আবির্ভাবের আগে এই ঢোলবাদকরাই ছিলেন সেহরির প্রধান সংকেত, যা আজও তুরস্কের সমৃদ্ধ ইতিহাসের এক জীবন্ত প্রতিফলন হিসেবে টিকে আছে।
টিএইচএ/
