নদনদী বেষ্টিত জামালপুরের চরাঞ্চল: মৌলিক নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত মানুষ

by naymurbd1999@gmail.com

জামালপুর প্রতিনিধি, (এমরান হোসেন)

নদনদী বেষ্টিত জামালপুর জেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মৌলিক নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রতিবছর বন্যা ও নদীভাঙনের কারণে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও বসতভিটা হারিয়ে হাজারো মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক অধিকার থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন
banner

জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ব্রহ্মপুত্র, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ঝিনাই, দশানী, জিঞ্জিরাম, আলাই ও মরা জিঞ্জিরাম নদী। এসব নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অসংখ্য চরাঞ্চল। দেওয়ানগঞ্জ, বকশীগঞ্জ, সরিষাবাড়ী, মাদারগঞ্জ ও জামালপুর সদরসহ জেলার সাতটি উপজেলাতেই প্রায় প্রতি বছর বন্যা ও নদীভাঙন দেখা দেয়। বন্যার সময় যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীবেষ্টিত এলাকার লক্ষাধিক মানুষ কয়েক সপ্তাহ পানিবন্দী অবস্থায় থাকেন। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর শুরু হয় ভয়াবহ নদীভাঙন।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের বন্যায় জেলার সাতটি উপজেলার ৬৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪৬টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। একই সঙ্গে আটটি পৌরসভার মধ্যে চারটি পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়। এতে জেলার ৪৯০টি গ্রামের প্রায় ৫ লাখ ৯৮ হাজার ২১৭ জন মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েন। বন্যায় ৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ২৫টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া ১৫ হাজার ৪৯২ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১৪০ কোটি টাকা। ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি মিলিয়ে মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা।

গত কয়েক দশকে ইসলামপুর, মাদারগঞ্জ, সরিষাবাড়ী ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার নদীতীরবর্তী ১৫টি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে প্রায় ২০ হাজার পরিবার তাদের সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে বহু প্রাচীন বাজার, রাস্তাঘাট, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

নদীভাঙনের পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে তীব্র খরার কবলেও পড়তে হয় নদীতীরবর্তী চরাঞ্চলের মানুষকে। ভঙ্গুর যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবার অভাবে এখানকার মানুষ নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হলেও সঠিক চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় অনেক কোমলমতি শিক্ষার্থীর পড়াশোনা অকালেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, সরকারের সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদীভাঙন প্রতিরোধ, টেকসই বাঁধ নির্মাণ, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে জামালপুরের চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সম্ভাবনা রয়েছে।

এনআর/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222