আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি মাদকাসক্তি নিরাময় হাসপাতালে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৬ মার্চ) দিবাগত রাতে চালানো এই পৈশাচিক হামলায় আহত হয়েছেন আরও ২৫০ জনের বেশি মানুষ। নিরাময় কেন্দ্রটির ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অর্ধশতাধিক মরদেহ চাপা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। টোলো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান রয়েছে এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের নিক্ষিপ্ত গোলায় নিরাময় কেন্দ্রটির পাঁচটি ব্লক সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘটনার সময় সেখানে প্রায় ৩ হাজার রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। ইসলামি আমিরাতের স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী মুহাম্মদ নবী উমারি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আফগানদের হত্যা করার জন্য পাকিস্তান একটি নির্দিষ্ট ‘প্রকল্প’ হাতে নিয়েছে। তবে আফগান সরকারের দেশের মানুষকে রক্ষা করার এবং এই হামলার সমুচিত জবাব দেওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শারাফাত জামান আমারখাইল জানিয়েছেন, এ নিয়ে দেশের মোট পাঁচটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক জান্তা।
এদিকে, স্বজনদের সন্ধানে কাবুলের উজির মোহাম্মদ আকবর খান হাসপাতাল ও জরুরি বিভাগে ভিড় করেছেন শত শত মানুষ। ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান নাজিবুল্লাহ ফারুকি জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৯৮টি মরদেহ তাদের বিভাগে নেওয়া হয়েছে, যার অধিকাংশ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী নবী উমারি নিহতদের পরিবারগুলোকে একটি নির্দিষ্ট কবরস্থানে দাফন করার আহ্বান জানিয়েছেন, যা এই ‘বর্বরতার’ চিরস্থায়ী প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে। সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইসহ আফগান ক্রিকেটার এবং সাবেক সরকারি কর্মকর্তারা এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: টোলো নিউজ
টিএইচএ/
