গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল না পেয়ে মহদীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজাদুল ইসলামকে বেধড়ক মারধর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে উপজেলার ঢোলভাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ৫৪ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, চাল প্রত্যাশী স্লিপধারীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন এবং একপর্যায়ে ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় একদল বিক্ষুব্ধ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (১৫ মার্চ) সকাল থেকে কার্ডধারী ও স্লিপধারীরা ইউনিয়ন পরিষদে জড়ো হয়ে চাল দাবি করতে থাকেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর চাল না পেয়ে তারা গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। দুপুর ১২টার দিকে চেয়ারম্যান আজাদুল ইসলাম সেখানে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং উত্তেজিত জনতা তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। খবর পেয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল ইয়াসা রহমান তাপাদার দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষুব্ধদের শান্ত করেন এবং বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্লিপ থাকা সত্ত্বেও তাদের চাল দেওয়া হয়নি এবং চাল বিতরণে অনিয়ম করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান আজাদুল ইসলাম জানান, তার ইউনিয়নে মোট ৫ হাজার ২০০টি স্লিপ বরাদ্দ ছিল, যার বিপরীতে গত শনিবারই চাল বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। এরপরও অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে জনৈক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করে আরও ৭৭৪ জন স্লিপধারীকে চাল দিয়েছেন। তার দাবি, পরদিন যারা স্লিপ নিয়ে এসেছিলেন সেগুলো তার দেওয়া স্লিপ নয়, বরং জাল বা নকল স্লিপ। চাল কম দেওয়ার অভিযোগটিও তিনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের সরকার জানান, স্লিপ থাকা সত্ত্বেও কেন মানুষ চাল পেলেন না এবং পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো স্বচ্ছতার অভাব ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টিএইচএ/
