রাজধানী ঢাকার দক্ষিণখানের ‘মাদ্রাসাতুর রহমান আল আরাবিয়া’-এর অন্ধ বিভাগের ২ অন্ধ হাফেজ দাওরায়ে হাদিস পাস করে ওমরাহ পালন করলেন। তারা পৃথিবীর ধুলোবালি দেখেনি, কিন্তু তাদের আঙুলের ডগা যখন ব্রেইল কুরআনের প্রতিটি বিন্দু স্পর্শ করে, তখন তারা সরাসরি অনুভব করে আরশের মালিকের নূর।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, এই দুই মেধাবী শিক্ষার্থী কোনোদিন দুনিয়ার আলো দেখেননি। কিন্তু ব্রেইল কোরআনের প্রতিটি বিন্দু স্পর্শ করে তারা আরশের মালিকের নূর অনুভব করেছেন। তাদের এই দীর্ঘ সাধনার পুরস্কার হিসেবে তারা পবিত্র কাবা ঘর তওয়াফ ও জিয়ারত করার সৌভাগ্য লাভ করেন। দুনিয়া না দেখলেও তারা হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছেন কাবার শীতলতা। কাবার গিলাফ ও দেয়াল স্পর্শ করার সেই পরম তৃপ্তি তাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সুযোগ ও সঠিক পরিবেশ পেলে দৃষ্টিহীন এই মানুষগুলোও যে জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদে পরিণত হতে পারে, তা আবারও প্রমাণ করলো দক্ষিণখানের এই ব্যতিক্রমী মাদ্রাসাটি।
মাদ্রাসাতুর রহমান আল আরাবিয়া পরিদর্শনে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মোস্তফা মঞ্জুর বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশে এমন মানসম্মত প্রতিষ্ঠান আছে তা ভাবনার অতীত ছিল। এখানে দৃষ্টিহীনদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতির পাশাপাশি বধির শিক্ষার্থীদের জন্য সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ বা ইশারা ভাষায় শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে, যা ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রে এক অসাধারণ ও মানবিক উদ্যোগ। মাদ্রাসার মুহতামিম বখতিয়ার হুসাইন সরদার জানান, বর্তমানে অন্ধ ও বধির শিক্ষার্থীরা একই ভবনে শিক্ষা গ্রহণ করছে। তবে তাদের ভিন্ন ভিন্ন আবেগ ও অনুভূতির কথা বিবেচনা করে ভবিষ্যতে তাদের জন্য আলাদা আবাসিক ও একাডেমিক ভবন স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি। এতে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও মেধার বিকাশ আরও সুন্দর ও গতিশীল হবে।
টিএইচএ/
