পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ছুটির মধ্যেও রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেল নিতে ভোগান্তি কমেনি। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার দাবি করা হলেও বাস্তবে অনেক পাম্পে দীর্ঘ লাইন, বিলম্বিত সরবরাহ এবং অনিশ্চয়তার কারণে চালকদের ভোর থেকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
গতকাল বুধবার সকাল থেকে দুপুর– রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উত্তরা আবদুল্লাহপুর, মালিবাগ, মোহাম্মদপুর ও কাকলী এলাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি। কোথাও লাইনের শেষ প্রান্ত মূল সড়ক ছাড়িয়ে পাশের সড়কে গিয়ে ঠেকেছে। এতে শুধু চালকদের ভোগান্তিই নয়, আশপাশের সড়কে যান চলাচলেও ধীরগতি তৈরি হয়েছে।
উত্তরার একটি পাম্পে দেখা যায়, তেল সরবরাহ শুরু হলেও চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মীরা। দেড় ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল চালক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, এখনও তেল পাইনি। মাঝেমধ্যে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আবার শুরু হচ্ছে। এতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।
মালিবাগের মোড়ের ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, তেল আসার অপেক্ষায় লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন অন্তত অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল চালক। তাদের অনেকেই ইঞ্জিন বন্ধ করে রোদে দাঁড়িয়ে আছেন। বেসরকারি চাকরিজীবী নাঈম হাসান বলেন, ছুটির দিনে একটু স্বস্তিতে চলাফেরা করব ভেবেছিলাম। কিন্তু তেলের জন্যই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় চলে যাচ্ছে।
মোহাম্মদপুর এলাকায় একটি পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ডিজেল সরবরাহ থাকলেও অকটেন ও পেট্রোল না থাকায় ব্যক্তিগত গাড়ির চালকরা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন, কখন নতুন সরবরাহ আসবে সেই আশায়।
কাকলী মোড়ের ফিলিং স্টেশনে পরিস্থিতি আরও জটিল। সেখানে সকালে কিছু সময় তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়, কারণ রাতেই মজুত শেষ হয়ে যায়। পরে নতুন চালান এলেও দীর্ঘ লাইনের কারণে স্বাভাবিক হতে সময় লেগেছে। পাম্পের এক কর্মী জানান, তেল আসতে দেরি হওয়ায় চাপ বেড়ে যায়। একসঙ্গে অনেক গাড়ি চলে আসে, তখন সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
চালকদের অভিযোগ, শুধু লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নয়, কখন তেল পাওয়া যাবে– সেই অনিশ্চয়তাও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ কেউ জানান, লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে।
তবে পাম্প মালিক ও কর্মচারীরা বলছেন, সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তাদের মতে, ঈদের ছুটিতে একসঙ্গে বেশি গাড়ি বের হওয়ায় চাহিদা বেড়েছে। পাশাপাশি সরবরাহ গাড়ি নির্দিষ্ট সময়ে না পৌঁছানোয় সাময়িক চাপ তৈরি হচ্ছে।
এনআর/
