স্পেন-ফ্রান্সের পর এবার মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য আকাশপথ বন্ধ করল ইতালি

by Abid

স্পেন ও ফ্রান্সের পথ অনুসরণ করে এবার মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য নিজেদের আকাশপথ ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করল ইতালি।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভূমধ্যসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘সিগোনেলা’ বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক বিমান অবতরণের অনুমতি দেয়নি রোম। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল অক্ষের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত থেকে নিজেদের দূরে রাখতেই ইতালি এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতালীয় সংবাদমাধ্যম ‘কোরিয়েরে ডেলা সেরা’র তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার পথে জ্বালানি সংগ্রহ ও লজিস্টিক সাপোর্টের জন্য মার্কিন বোমারু বিমানগুলো সিসিলির এই ঘাঁটিতে থামার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু ইতালি সরকার তাতে বাদ সাধে এবং ইতালীয় সামরিক কমান্ডের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরামর্শ না করাকে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির লঙ্ঘন বলে অভিহিত করে।

বিজ্ঞাপন
banner

এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে ইতালিতে তীব্র অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও কাজ করছে বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী সরকারের ওপর বিরোধী দলগুলো ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে যেন ইতালির মাটি ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো বৈরী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না দেওয়া হয়। তারা সতর্ক করে বলেছে, এই আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে রোম বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে। এর প্রেক্ষিতে সরকার জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি সরাসরি কোনো সামরিক অভিযানের জন্য ইতালির ঘাঁটি ব্যবহারের প্রস্তাব দেয়, তবে বিষয়টি নিয়ে পার্লামেন্টের ভোটাভুটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইতালির এই অনমনীয় অবস্থান ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্য রণকৌশলকে বেশ খানিকটা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

ইতালির এই ঘোষণার আগে ফ্রান্স ও স্পেনও একই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফ্রান্স তাদের আকাশপথ ব্যবহার করে ইসরাইলে সামরিক সরঞ্জামবাহী বিমান চলাচলের অনুমতি দেয়নি। অন্যদিকে, গত সোমবার স্পেন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে তাদের আকাশপথ বা সামরিক ঘাঁটি কোনোভাবেই ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধকে ‘অযৌক্তিক, নৃশংস এবং অবৈধ’ হিসেবে অভিহিত করে একে ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতি বলে বর্ণনা করেছেন। ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর এই সম্মিলিত ‘না’ ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে বড় ধরনের কূটনৈতিক ও সামরিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222