জামালপুরে হামে আক্রান্ত ১০ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি

by Abid

এমরান হোসেন (জামালপুর প্রতিনিধি): জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে গত কয়েক দিনে হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে ১০ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় হাসপাতাল ভবনের চতুর্থ তলায় ১০ শয্যা বিশিষ্ট একটি বিশেষ ‘হাম কর্নার’ চালু করা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের নিবিড় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত এই হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। বুধবার (১ এপ্রিল) ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান সোহান গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন
banner

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের সংক্রমণ নিয়ে নতুন করে আরও তিন শিশু ভর্তি হয়েছে। একই দিনে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছে আরও তিন শিশু। বর্তমানে হাসপাতালটিতে মোট ১০ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের স্বজনরা জানিয়েছেন, হঠাৎ তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা দানা এবং প্রচণ্ড শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেওয়ার পর তারা সন্তানদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসেন। জেলার বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিকভাবে শিশুদের মধ্যে হামের এই প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবকদের মাঝে এক ধরনের উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে সংক্রমণের ভয়াবহতা। ইসলামপুর উপজেলার ধনতলা গ্রামের ৯ মাস বয়সী শিশু সাইফ গত ১৪ দিন ধরে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে, সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদীঘা গ্রামের রনি মিয়ার যমজ দুই ছেলেই হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ছয় মাস বয়সী রাফানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে এবং অপর শিশু রায়ান বর্তমানে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে তার দাদির কাছে চিকিৎসাধীন রয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ যা মূলত শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায়। শিশুদের মধ্যে প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান সোহান জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ডের পাশাপাশি একটি জরুরি মেডিকেল ও নার্স টিম গঠন করা হয়েছে। রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়মিত ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। ল্যাব পরীক্ষার ফলাফল আসতে ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগলেও ওই সময়ে শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখা হয়েছে। তিনি আরও পরামর্শ দেন যে, হামের সামান্যতম উপসর্গ বা সন্দেহ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করতে হবে।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222