এমরান হোসেন (জামালপুর প্রতিনিধি): জামালপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিজস্ব ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করা এবং ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা আইসিইউ ইউনিট দ্রুত চালুর দাবিতে সরব হয়েছে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ। এসব ন্যায্য দাবি আদায়ে বিলম্ব হলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর ও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে জেলা স্বাস্থ্যসেবা ও রোগীকল্যাণ কমিটির উদ্যোগে ২৫০ শয্যার জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে এসব দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং যথাযথ সিদ্ধান্তহীনতার কারণে ৫০০ শয্যার জামালপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিজস্ব ভবনের নির্মাণকাজে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হচ্ছে না। এর ফলে জেলার লাখ লাখ মানুষ আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালু না হওয়ায় জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল খরচে ময়মনসিংহ বা ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ছুটতে হচ্ছে। বক্তারা অবিলম্বে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, ২৫০ শয্যার জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থাপিত আইসিইউ ইউনিটটি দ্রুত চালু করা এখন সময়ের দাবি। দীর্ঘ সময় ধরে ইউনিটটি পড়ে থাকলেও তা সাধারণ মানুষের কোনো কাজে আসছে না। একইসঙ্গে হাসপাতালকে সকল প্রকার অনিয়ম, দুর্নীতি ও দালালমুক্ত রেখে একটি রোগীবান্ধব ও নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয়। দাবি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে রাজপথে আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন আয়োজকরা।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে জামালপুর পৌর শহরের মনিরাজপুর এলাকায় ৩৫ একর জমির ওপর জামালপুর মেডিকেল কলেজ ও ৫০০ শয্যার হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু হলেও প্রায় এক দশকেও তা আলোর মুখ দেখেনি। অন্যদিকে, ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলেও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে ইউনিটটি গত কয়েক বছর ধরে পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়ে আছে।
মানববন্ধনে জেলা স্বাস্থ্যসেবা ও রোগীকল্যাণ কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রাসেল মিয়া, জামালপুর মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আরাফাত হোসেন এবং এনজিও প্রতিনিধি লিটন সরকারসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
টিএইচএ/
