ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলীয় সূত্র জানায়, মনোনয়নপ্রাপ্তদের ইতোমধ্যে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহও করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার আগের দিন আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের ফরম জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
দলীয় সূত্র মতে, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য জামায়াতের মহিলা বিভাগ থেকে প্রস্তাবিত একটি তালিকা দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। গত ১৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভায় ওই তালিকা নিয়ে আলোচনা-পরামর্শ শেষে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করা হয়।
এ তালিকায় জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকাসহ সাতজন নেত্রীর নাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন—মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম, মানবসম্পদ ও আইন বিভাগের সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাবিকুন নাহার মুন্নি, সিলেট অঞ্চলের মাহফুজা সিদ্দিকা, চট্টগ্রাম অঞ্চলের মেরিনা সুলতানা, বগুড়া অঞ্চলের সাজেদা সামাদ এবং ঢাকা অঞ্চল থেকে মারদিয়া মমতাজ। গ্রিন সিগন্যাল পাওয়া এক প্রার্থী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র জানায়, সংসদ সদস্যদের আনুপাতিক হারে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট মোট ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারে। এর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একটি আসন পাওয়ার কথা থাকলেও জোটের সমীকরণ অনুযায়ী এনসিপি নির্ধারিত একটির বাইরে জামায়াতের কোটা থেকে আরও একটি আসন পেতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি অন্য শরিক দলগুলোকেও জামায়াতের কোটার অংশ থেকে দুয়েকটি আসন ছাড় দেওয়া হতে পারে।
এনসিপির দুটি আসন চূড়ান্ত হলেও অন্য শরিকদের মধ্যে কারা পাচ্ছে—তা গতকাল পর্যন্ত নিশ্চিত হয়নি। আজকের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে জামায়াতের কোটায় দলীয় নেতৃত্বের বাইরে বিশেষ বিবেচনায় বিশিষ্ট কয়েকজনকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য জামায়াতের প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সব নাম প্রকাশ না করা হলেও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতের জন্য ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেওয়া হয়েছে। মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আগামী ২০ এপ্রিল তা জমা দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, প্রার্থী নির্ধারণে মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন মহানগর ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
হাআমা/
