দীর্ঘ দাবদাহে জনজীবন ওষ্ঠাগত হওয়ার পর অবশেষে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা পেলো রাজধানীবাসী।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিকেল সোয়া চারটা নাগাদ ঢাকার ধানমন্ডি, কলাবাগান, মোহাম্মদপুর, সূত্রাপুর, বংশাল ও মাতুয়াইলসহ বিভিন্ন এলাকায় এই বৃষ্টি শুরু হয়। কোথাও হালকা আবার কোথাও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি দিয়ে শুরু হলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ভারী বর্ষণে পরিণত হয়। তপ্ত দুপুরে এক পশলা বৃষ্টির ছোঁয়ায় নগরজীবনে স্বস্তি নেমে এসেছে এবং ভ্যাপসা গরমের তীব্রতাও অনেকটা কমে এসেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। রবিবার সকাল থেকেই রাজধানীর আকাশ ছিল মেঘলা। দুপুরের দিকে কিছু এলাকায় ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হলেও তা স্থায়ী হয়নি। তবে বিকেলের দিকে মেঘের ঘনঘটা বেড়ে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ে। আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চল ও সিলেটে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
তাপমাত্রার বিষয়ে অধিদপ্তর জানায়, ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে এবং দেশের অন্যত্রও তা সামান্য কমতে পারে। বর্তমানে ঢাকা, মাদারীপুর, রাজশাহী, পাবনা ও খুলনা বিভাগসহ বেশ কিছু জেলার ওপর দিয়ে যে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, তা কিছু কিছু জায়গা থেকে প্রশমিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরির কারণে আগামী ৯৬ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ১৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনায় সংশ্লিষ্ট এলাকার কোথাও কোথাও অস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, সারা দেশে রাতের তাপমাত্রাও সামান্য কমতে পারে, যা জনমনে স্বস্তি আরও বাড়িয়ে তুলবে।
টিএইচএ/
