কামানের গোলা দিয়ে ইফতারের সময় জানানো: ঐতিহ্যের মজাদার ইতিহাস

by Fatih Work

আরবের মুসলিম দেশগুলোতে রমজান মাসে ইফতারের সঠিক সময় জানাতে কামানের গোলা ছোড়ার প্রথা একেবারে পুরোনো এবং তা সারা বিশ্বের মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপক পরিচিত। এই রীতি বিশেষ করে মিসরসহ অন্যান্য আরব দেশে প্রচলিত, এবং তার পেছনে রয়েছে দুটি ভিন্ন ইতিহাস, একটি ঐতিহাসিক এবং অন্যটি কিছুটা কাকতালীয়।

প্রথম ইতিহাস:

বিজ্ঞাপন
banner

অনেকে বলেন, মিসরের ফাতেমি খিলাফত বা দশম শতকের শাসনামলে কায়রোর মুক্বাতাম পাহাড়ে একটি কামান বসানো হয়েছিল। এটি ছিল একটি দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ, যার উদ্দেশ্য ছিল পুরো নগরের বাসিন্দাদের একই সময়ে ইফতারের সঙ্কেত দেওয়া। সেই সময় ঘড়ি ছিল না এবং মসজিদে মাইকও ব্যবহৃত হত না, ফলে শহরের সকল বাসিন্দাদের জন্য কামান থেকে গোলা ছোঁড়া সহজ এবং কার্যকর একটি উপায় ছিল।

দ্বিতীয় ইতিহাস:

কিন্তু মিসরের কামান রীতি সম্পর্কে একটি মজার এবং কাকতালীয় ইতিহাসও রয়েছে। মামলুক শাসনামলের কায়রোতে তখন সুলতান সাইফুদ্দিন খোশক্বাদম ছিলেন। একদিন তিনি বিশেষ একটি উপহার হিসেবে একটি কামান পান। আনন্দিত সুলতান তখন তা পরীক্ষা করতে নির্দেশ দেন। সে দিন ছিল রমজানের প্রথম দিন এবং মাগরিবের সময়। সুলতান যখন কামান থেকে গোলা ছুড়তে বলেন, তখন শহরের বাসিন্দারা এটি ইফতারের সঙ্কেত ভেবে নেন এবং পরদিন সকলে এসে সুলতানকে ধন্যবাদ জানায়। শহরের জনগণের এই প্রশংসা সুলতানের কন্যা হাযযা ফাতিমাহর কাছে খুবই ভালো লাগে। তিনি তার বাবার কাছে আবেদনে যান যে, যেন প্রতিদিন রমজান মাসে ইফতারের সঙ্কেত কামান থেকে দেওয়া হয়। সুলতান তার প্রিয় কন্যার অনুরোধ মেনে নেন এবং সেখান থেকেই শুরু হয় মিসরে ‘মিদফা আল-ইফতার’ বা ইফতারের কামান প্রথা।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া রীতি:

এটি ধীরে ধীরে আরব বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে, বিশেষ করে আরব আমিরাতে, রমজান মাসে কামানের গোলা ছোঁড়ার প্রথা এখনও বহাল রয়েছে। তবে কায়রোর বিষয়টি বেশ একটু ভিন্ন, ১৯৯২ সাল থেকে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর সংস্কারের কারণে সেখানে এই রীতি বন্ধ ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে তা আবার পুনরায় চালু করা হয়েছে, এবং সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে একে কেন্দ্র করে ব্যাপক আনন্দের সঞ্চার হয়েছে।

এই প্রথা আসলে এক যুগান্তকারী ঐতিহ্য, যা শুধু একটি সঙ্কেত দেওয়ার মাধ্যম নয়, বরং সেই সময়ের মানুষের জীবনযাত্রা, সম্পর্ক এবং ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। কামানের গোলার আওয়াজ এখন আর শুধুমাত্র একটি শব্দ নয়, এটি মুসলিম বিশ্বে এক অভিন্ন রীতির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ধর্মীয় অনুভূতি ও ঐক্যের নিদর্শন হিসেবে কাজ করছে।

এনএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222