ইনহেলার ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যাবে। শ্বাসকষ্ট দূর করার জন্য ওষুধটি মুখের ভেতরভাগে স্প্রে করা হয়। এতে যে জায়গায় শ্বাসরুদ্ধ হয় সেই জায়গাটি প্রশস্ত হয়ে যায়। ফলে শ্বাস চলাচলে আর কষ্ট থাকে না।
উল্লেখ্য, ওষুধটি যদিও স্প্রে করার সময় গ্যাসের মতো দেখা যায়, কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে তা দেহবিশিষ্ট তরল ওষুধ। অতএব, মুখের অভ্যন্তরে স্প্রে করার দ্বারা রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। তবে হ্যাঁ, মুখে স্প্রে করার পর না গিলে যদি থুতু দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়, তাহলে রোজা ভঙ্গ হবে না। এভাবে কাজ চললে বিষয়টি অতি সহজ হয়ে যাবে।
এতে শ্বাসকষ্ট থেকে রেহাই পাওয়ার পাশাপাশি রোজাও ভঙ্গ হবে না। (ইবনে আবিদিন২/৩৯৫; ফাতাওয়ায়ে ফক্বীহুল মিল্লাত ৫/৪৫৯ হেদায়া ১/১২০)
কোনো কোনো চিকিৎসক বলেন, সাহরিতে এক ডোজ ইনহেলার নেওয়ার পর সাধারণত ইফতার পর্যন্ত আর ইনহেলার ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। তাই এভাবে ইনহেলার ব্যবহার করে রোযা রাখা উচিত। হ্যাঁ, কারো যদি বক্ষব্যাধি এমন মারাত্মক আকার ধারণ করে যে ইনহেলার নেয়া ছাড়া ইফতার পর্যন্ত অপেক্ষা করা কঠিন হয়ে যায়, তাহলে তাদের ক্ষেত্রে এই সুযোগ রয়েছে যে তারা প্রয়োজনভেদে ইনহেলার ব্যবহার করবে ও পরবর্তী সময় রোজা কাজা করে নেবে।
আর কাজা করা সম্ভব না হলে ফিদিয়া আদায় করবে। আর যদি ইনহেলারের বিকল্প কোনো ইনজেকশন থাকে, তাহলে তখন ইনজেকশনের মাধ্যমে চিকিৎসা করবে। কেননা রোযা অবস্থায় ইনজেকশন নিলে রোযা ভাঙবে না। (ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান, পৃষ্ঠা ৩২৪; সুরা বাকারা : ১৮৪, রদ্দুল মুখতার : ২/৩৯.)
এনআর/
