উনবিংশ শতকে বাঙালি মুসলমানরা যখন একদিকে ব্রিটিশ এবং অপর দিকে নব্য উঠতি হিন্দুসমাজের জাঁতাকলে অত্যাচারিত, লাঞ্ছিত এবং শোষিত হচ্ছিল এবং তাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় অধিকার হচ্ছিল দলিত এবং পিষ্ট। তখন আকমল চৌধরী স্বপ্ন দেখতেন এই অধঃপতিত, বিভ্রান্ত ও বিচলিত মুসলমানদের দুঃসময়ে একজন সাহসী নেতার। যিনি শোষক ব্রিটিশদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মুসলমানদেরকে আবার ফিরিয়ে আনবেন নিজেদের সোনালি অতীতের দিকে।
বাঙালি মুসলমানরা যখন নিজেদের চেতনা ও গৌরবময় ঐতিহ্য-ইতিহাস ভুলে গিয়ে বিজাতীয় সংস্কৃতির নানান কুসংস্কারের বেড়াজালে আবব্ধ এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও যখন শাসকগোষ্ঠীর দ্বারা অবহেলিত হয়ে ক্রমান্বয়ে নিমজ্জিত হচ্ছিল অন্ধকারের আবর্তে, তখন দিকভ্রান্ত-দিশেহারা মুসলমানদের পাশে সূর্যশিখা হয়ে দাঁড়ান ফারায়েজি আন্দোলনের নেতা হাজী শরিয়তুল্লাহ্। যা পরবর্তীতে ফরায়েজি আন্দোলন নামে সারা বাংলায় নবজাগরণ ঘটায় এবং ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের রসদ জোগায়। এবং বাংলার জনজীবন নতুন করে আবার জেগে ওঠার প্রয়েজনীয় পথনির্দেশ পায়।
বইটা দুই খন্ডে লিখিত। প্রথম খন্ড হাজী শরিয়তুল্লাহ এবং তাঁর ফরায়েজি আন্দোলনকে নিয়ে। প্রথম খন্ড প্রকাশ হয়েছিল ১৯৮৭ সালে ইসলামি ফাউন্ডেশন থেকে। এরপর দ্বিতিয় খন্ড প্রকশ হয় প্রথম খন্ডের ৮ বছর পর। দ্বিতিয় খন্ডটি মূলত হাজী শরিয়তুল্লাহর পুত্র মহসিন-আল-দীন ওরফে দুদু মিয়ার কর্মকাণ্ডকে ঘিরে।
ইতিহাসাশ্রিত উপন্যসগুলো ধারাবাহিকতা বজায় রেখে রচনা করা অনেক কঠিন ও ধৈর্যের বিষয়। লেখিকা রাজিয়া মজিদ সে ব্যপারে যথেষ্ট সতর্ক থেকেছেন। লেখিকার এই প্রচেষ্টকে আল্লাহ কবুল ফরমান।
বইটা নতুন করে প্রকাশ করেছে- ঐতিহ্য Oitijjhya।
এনএ/
