পহেলা বৈশাখ ১৪৩২ (১৪ এপ্রিল ) উদযাপন উপলক্ষে বিজাতীয় সংস্কৃতি, কুসংস্কার ও সাম্প্রদায়িক আচার থেকে মুক্ত থেকে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন কবি ও জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (জাসাক)-এর সভাপতি কবি মুহিব খান।
শুক্রবার (১১ এপ্রিল) বিকাল ৩টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “বাংলা নববর্ষ বাঙালি জাতির নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতীক। এটি কোনো ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং সর্বজনীন জাতীয় উৎসব। কিন্তু গত কয়েক দশকে বিজাতীয় কিছু রীতি রেওয়াজ, উস্কানিমূলক কার্যকলাপ ও কুসংস্কার এই উৎসবে অনুপ্রবেশ করে এর সার্বজনীনতাকে কলুষিত করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “৯০-এর দশকের পর থেকে একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই উৎসবকে ব্যবহার করে সমাজে বিভ্রান্তিকর সংস্কৃতির প্রসার ঘটিয়েছে, যা দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”
তিন দফা কর্মসূচির ঘোষণা
জাসাক-এর পক্ষ থেকে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে তিনটি মূল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়-
‘বাংলা নবযাত্রা ১৪৩২’ (সকাল ৯টা)
রাজধানীর পল্টন মুক্তাঙ্গন থেকে শুরু হয়ে র্যালিটি পুরানা পল্টন, প্রেস ক্লাব, জাতীয় ঈদগাহ, হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট হয়ে শিল্পকলা একাডেমি সংলগ্ন জাতীয় মৎস্য ভবন সড়কে গিয়ে শেষ হবে।
‘বাঙালি মেজবান’ (দুপুর ১২টা)
জাতীয় মৎস্য ভবন সড়ক প্রাঙ্গণে দেশি চালের ভাত, দেশি গরুর মাংস ও মিষ্টান্ন পরিবেশনের আয়োজন থাকবে। সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে শৃঙ্খলা অনুযায়ী।
‘বাংলা সাংস্কৃতিক উৎসব’ (বিকেল ৩টা – রাত)
একই স্থানে অনুষ্ঠিত হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে দেশীয় গান, কবিতা, এবং ইতিহাস-ঐতিহ্যভিত্তিক আলোচনা স্থান পাবে।
সংবাদ সম্মেলনে মুহিব খান দেশের সব স্তরের নাগরিক, পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুবান্ধবসহ অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের উদ্দেশেও তিনি পুরো আয়োজনের যথাযথ প্রচার-প্রচারণায় সহযোগিতার আহ্বান জানান।
উপস্থিত ছিলেন জাসাকের সিনিয়র সহ-সভাপতি রশিদ আহমদ ফেরদাউস, সহ-সভাপতি শাঈখ মুহাম্মদ উছমান গনি, সাধারণ সম্পাদক কাউসার আহমদ সুহাইলসহ আরও অনেকে।
এনএ/
