এশিয়া কাপের অলিখিত সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় মঞ্চে আবারও ব্যর্থ হলেন অধিনায়ক জাকের আলী। ১৩৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের ১১.৪ ওভারে নুরুল হাসান আউট হলে বাংলাদেশের রান ছিল ৫ উইকেটে ৬৩। তখন ক্রিজে আসেন জাকের।
বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৫০ বলে ৭৩ রান। শামীম হোসেনের সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়ে ম্যাচে ফেরানোর দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে। কিন্তু জাকের খেলেন মাত্র ৯ বল, করেন ৫ রান, দেন ৫টি ডট। সাইম আইয়ুবের বলে ভুল শটে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরতে হয় তাঁকে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আত্মঘাতী শট খেলায় সমালোচনা হচ্ছে অধিনায়কের সিদ্ধান্ত নিয়ে।
প্রায় দুই বছরের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে জাকের বাংলাদেশের অন্যতম ‘ফিনিশার’ হিসেবে পরিচিত হলেও বড় টুর্নামেন্টে তাঁর পরিসংখ্যান ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৪: ৪ ইনিংসে ৪৬ বলে করেছেন ৩৫ রান, ৩টি চার, কোনো ছক্কা নেই।
- এশিয়া কাপ ২০২৫: ৬ ইনিংসে ৬৬ বলে করেছেন ৭১ রান, ৫টি চার, কোনো ছক্কা নেই।
অথচ তাঁর সামগ্রিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ৪২ ম্যাচে ৩৮টি ছক্কা রয়েছে। আফিফ হোসেনের সমান সংখ্যক ছক্কা, যদিও আফিফ খেলেছেন ৭০ ম্যাচ।
লিটন দাসের ইনজুরিতে এশিয়া কাপে অধিনায়কত্ব পান জাকের। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে সুপার ফোর এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে অলিখিত সেমিফাইনাল—দুই ম্যাচেই দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে পারেননি। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে তিনি ব্যাটিং ব্যর্থতার দায় স্বীকার করলেও দলীয় ভাবনার চেয়ে ‘ইউনিট’ শব্দ ব্যবহার করে সমালোচিত হয়েছেন।
জাকের বলেন,
“ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে শেষ দুই ম্যাচে আমরা হেরেছি। বোলিং ইউনিট হিসেবে আমরা খুব ভালো করেছি। রিশাদ ও সাইফ গর্বিত করেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমরা তাকে সমর্থন দিতে পারিনি।”
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে বড় আসরে ব্যর্থ হয়ে বিদায় নেওয়ার পর আংশিক সাফল্যে সন্তুষ্টি খোঁজা নতুন নয়। জাকেরও একই পথে হাঁটলেন। তবে সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল ভিন্ন—গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অধিনায়ক জাকেরই দলকে পথ দেখাবেন। সেটিই আর হলো না।
টিএইচএ/
