দরিদ্র ও অসহায় গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিশুর প্রাথমিক যত্নে আর্থিক সহায়তা দিতে সরকার ২০১১ সাল থেকে ‘মাতৃত্বকালীন ভাতা কর্মসূচি’ চালু করেছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন এই প্রকল্পটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে যোগ্য মায়েদের প্রদান করা হচ্ছে।
এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো গর্ভবতী মায়েদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে তাদের ও তাদের সন্তানের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করা। বর্তমানে প্রতি মাসে ৮০০ টাকা হারে ছয় মাস অন্তর এককালীন ৪,৮০০ টাকা দেওয়া হয়। একজন সন্তানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৪ মাসে মোট ১৯,২০০ টাকা এবং দুই সন্তানের ক্ষেত্রে ৩৬ মাসে সর্বোচ্চ ২৮,৮০০ টাকা পাওয়া যায়।
মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য আগ্রহী মায়েরা অনলাইনে অথবা নিকটস্থ ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা কাউন্সিলরের অফিসে আবেদন জমা দিতে পারবেন।
অনলাইন আবেদন: http://103.48.16.6:8080/LM-MIS/applicant/onlineRegistration – এই লিংকের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করা যায়। অনলাইন ফরমে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত, ঠিকানা, আয় এবং সন্তানসংক্রান্ত তথ্য পূরণ করতে হবে। ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করা বাধ্যতামূলক।
অনলাইনে প্রতি মাসের ১ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
আবেদন করার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র, গর্ভাবস্থার মেডিকেল রিপোর্ট, ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্যসহ নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করতে হবে।
আবেদন যাচাই ও অনুমোদনের কাজটি সম্পন্ন করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা। সাধারণত জুলাই মাসে ভাতাভোগী নির্বাচন করা হয়।
এই ভাতার জন্য আবেদনকারীকে নিম্নলিখিত শর্তাবলি পূরণ করতে হবে:
বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।
প্রথম বা দ্বিতীয় গর্ভধারণের সময় আবেদন করতে হবে।
মাসিক আয় ১,৫০০–২,০০০ টাকার মধ্যে বা তার কম হতে হবে।
কৃষিজমি বা মাছ চাষের জন্য পুকুর থাকলে আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়।
জুলাই মাসে ভাতাভোগী নির্বাচনের সময় অন্তত পাঁচ মাসের গর্ভবতী হতে হবে।
সরকার কঠোরভাবে জানিয়েছে, এই ভাতা কেবল দরিদ্র, অসহায় ও যোগ্য মায়েদের জন্য নির্ধারিত। প্রতারক চক্রের হাত থেকে বাঁচতে আবেদনকারীদের অবশ্যই সরকারি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এনআর/
